(ভিডিও)ইরানে সৌদির গোপন হামলার তথ্য ফাঁস

SHARE

https://youtu.be/oR3fLLdOtmw?si=u3gML8PbvdZ-m6rs

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক  প্রতিনিধি,মঙ্গলবার   ১৯ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩৩ || ২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মোড়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার পর যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে এবার সরাসরি নাম লেখাল সৌদি আরব। গোপন কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে দেশটি ইরানের ভূখণ্ডে- যা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক হামলা চালায়। পশ্চিমা দুই কর্মকর্তা ও ইরানের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, সৌদিরা ইরানের ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান চালাল। এটি ছিল ইরানের পূর্ববর্তী হামলার জবাব।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটি ছিল চোখের বদলে চোখ- সৌদি আরব যখন আক্রান্ত হয়েছিল, তার প্রতিক্রিয়া।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকাশ হামলা শুরুর পর থেকেই পুরো অঞ্চল উত্তপ্ত। ইরান তখন উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী, ব্যাহত হয় বৈশ্বিক বাণিজ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবও নীরবে পাল্টা জবাব দিতে থাকে।

শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। অর্থাৎ ইরানের আগ্রাসনের মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের রক্ষায় নতুন কৌশল নিচ্ছে।

গোপন হামলার পরই সৌদি আরব ইরানকে জানিয়ে দেয়- এটি শেষ সতর্কবার্তা। আরও হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র বলছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দুপক্ষের মধ্যে অলিখিত সমঝোতা হয়- সংঘাত আর বাড়ানো যাবে না। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে, উভয় পক্ষই জানে অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার মূল্য ভয়াবহ হতে পারে।’

চীন ২০২৩ সালে সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মধ্যস্থতা করে। সেই সুবাদে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গেও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রেখেছে সৌদি আরব। এ যুদ্ধ চলাকালেও সৌদি আরব তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পেরেছে- যা অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সম্ভব হয়নি।

সাবেক সৌদি গুপ্তচর প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফেইসাল এক লেখায় বলেছেন, ‘যখন ইরান ও অন্যরা আমাদের ধ্বংসের চুল্লিতে টানতে চেয়েছিল, আমাদের নেতৃত্ব প্রতিবেশীর যন্ত্রণা সহ্য করে নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পথ বেছে নিয়েছে।’

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে সৌদির ওপর হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে। তবে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক থেকে হামলা চালাতে থাকে। ১২ এপ্রিল সৌদি আরব ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়।

এই সব ঘটনার মধ্যেই ৭ এপ্রিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়। তার আগের সপ্তাহেই সৌদি-ইরানি নীরব সমঝোতা কার্যকর হয়।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের কাছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের অবস্থান সুস্পষ্ট- সংঘাত নিরসন, আত্মসংযম ও উত্তেজনা কমানোর মাধ্যমে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: রয়টার্স।