(ভিডিও )গাজীপুরে হ’ত্যার শিকার ৫ ম’রদেহের দা’ফন কা’ফনের প্রক্রিয়া শুরু

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম, প্রতিনিধি,রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাসা থেকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

 

অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান মিয়া পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আবু মুসা নামে তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনাস্থলে আসেন।

নিহতরা হলেন, পলাতক ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), মাদরাসাপড়ুয়া বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮) ও ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লার বাড়ি গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকায়।

 

 

ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদরের মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে উপজেলার রাউৎকোনা এলাকার মনিরের বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন।

নিহতদের মরদেহের পাশে মো. ফোরকানের স্বাক্ষরহীন একটি কম্পিউটার টাইপ করা সাধারণ ডায়েরির কপি পাওয়া যায়। এতে তিনি তার স্ত্রী শারমিন খানম, শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তার ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন। তার স্ত্রীর মাধ্যমে তার শ্বশুর বিভিন্ন সময় পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জমি ক্রয় করেন। টাকা ফেরত চাইলে তাদের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। গত ৩ মে উল্লিখিত সবাই মিলে তাকে বাসায় আটকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।

গাজীপুরে ৫ খুন: মরদেহের পাশে থাকা জিডির কপি থেকে যা জানা গেলো

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন সন্তানের গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। আর শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।

ফোরকান মিয়ার ভায়রাভাই শামীম জানান, ফোরকান শুক্রবার ফোন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শ্যালক রসুল মিয়াকে কাপাসিয়ায় তার বাসায় নিয়ে আসেন। সে মাদকাসক্ত ছিল বলে জানা যায়। তার বাসা থেকে মদের বোতল এবং ইয়াবা সেবনের উপকরণ পাওয়া গেছে।

 

শারমিনের খালাতো ভাই সাজ্জাদ মিয়া মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। অনেক দিন ধরে তাদের মাঝে ঝগড়াঝাটি চলছিল। ইতিপূর্বে স্বজনরা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।

গাজীপুরের (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ, পিবিআই, ডিবি, সিআইডি একযোগে কাজ শুরু করেছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, পলাতক ফোরকান মিয়া প্রাইভেটকারচালক। তিনি প্রায় এক বছর আগে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বাসাভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ বা অন্য যে কোনো জেরে ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

Advertisement

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যোবায়ের হোসেন জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।