ট্রাম্পের আল্টিমেটামের পরই ইরানি ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা(ভিডিও )

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ,বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

ওয়াশিংটনের দেওয়া নতুন শর্তে তেহরান যুদ্ধ শেষ করতে রাজি না হলে পুনরায় বোমা হামলা শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ মে) ট্রাম্পের সেই আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পরই ওমান উপসাগরে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে সেটি অচল করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘এম/টি হাসনা’ নামে চিহ্নিত খালি ট্যাঙ্কারটি বুধবার একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর মাধ্যমে জাহাজটি ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, এক দিন আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিলেও নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হয়নি।

 

 

সেন্টকমের তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনী একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান জাহাজটির রাডার লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে জাহাজটি আর ইরানের দিকে এগোতে পারেনি।

 

এই হামলাটি এমন সময় ঘটল যখন ট্রাম্প তেহরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরান যদি নতুন প্রস্তাবিত শর্তগুলো মেনে না নেয়, তাহলে বর্তমানের এই ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান আরো ভয়াবহ রূপ নেবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “তারা যদি রাজি না হয়, তাহলে পুনরায় বোমা হামলা শুরু হবে। দুঃখজনকভাবে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক হবে।”

 

পরবর্তীতে পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার চীন সফরের আগেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে তিনি এও যোগ করেন যে, যদি তা না হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ‘তাদের ওপর নরকীয় বোমা হামলা’ শুরু করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ সমাপ্তি এবং ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে একটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য অবাধ সুযোগ তৈরি, পর্যায়ক্রমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা তহবিল মুক্ত করা এবং জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

তবে পাকিস্তানি একটি সূত্র আরটি-কে জানিয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এখনো ‘কিছুটা ধীর’। বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, প্রস্তাবটি এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, আলোচনার জন্য ‘সদিচ্ছা’ প্রয়োজন, কোনো ধরনের ‘বলপ্রয়োগ’ থাকা উচিত নয়।

Advertisement

 

ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার খবর আসার আগে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারাও চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি এই আলোচনাকে আরো আগ্রাসনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান তাদের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ উপহার দেবে।

মার্কিন যুদ্ধবিমান