
মেঘনা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আলমগীর হোসেন
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,সাক্ষাৎকার গ্রহণে:সাংবাদিক এ আর জাফরী, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক ফিনিক্স বাংলা এর সৌজন্যে, মঙ্গলবার ০৫ মে ২০২৬ || বৈশাখ ২২ ১৪৩৩ || ১৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
পেশাদার সাংবাদিকতায় যখন তিন দশক অতিক্রান্ত হয়, তখন একজন মানুষের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। ৯০-এর উত্তাল ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান ডিজিটাল যুগের সংবাদ প্রবাহ—সবকিছুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ আলমগীর হোসেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেঘনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক আলোকিত সকাল সাথে জড়িয়ে আছেন দীর্ঘ ১০ বছর। তার জীবনের সেই ফেলে আসা দিনগুলোর গল্প এবং বর্তমান সাংবাদিকতার সংকট নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক ফিনিক্স বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক এ আর জাফরী।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
এ আর জাফরী: আপনার কর্মজীবনের বর্তমান ঠিকানা দৈনিক আলোকিত সকাল ২৫ বছর পূর্ণ করলো। এই দীর্ঘ যাত্রার সাথে আপনার সম্পৃক্ততা এবং বিবর্তনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মোঃ আলমগীর হোসেন: ধন্যবাদ জাফরী সাহেব। ভাবতে সত্যিই ভালো লাগছে যে, খোঁজখবর দুই যুগ অতিক্রম করে ২৫ বছরে পা রাখলো। আমি যদিও পত্রিকাটির শুরুর লগ্নে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে সাথে ছিলাম না, তবে গত ১০ বছর ধরে এর অগ্রযাত্রার সারথি হিসেবে আছি। সেই সময়ে পত্রিকা প্রকাশ করা যে কতটা কষ্টের ছিল, তা এখনকার সংবাদ কর্মীদের বুঝানো যাবেনা। গত এক দশকে আমরা এখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ নানাবিধ সংবাদ প্রকাশ করেছি। বড় প্রাপ্তি হলো, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংবাদের ব্যাপারে কোনো চাপ ছিল না বলেই অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। বিশেষ করে সম্পাদক হাসনাইন সাজ্জাদী ভাই এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অন্য সহকর্মীদের যে আন্তরিকতা আমি পেয়েছি, তাতেই আমার কাজ সহজ হয়েছে।
এ আর জাফরী: আপনার সাংবাদিকতায় আসার পেছনে কার অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি ছিল?
মোঃ আলমগীর হোসেন: আমার বাবা একজন শ্রমিক নেতা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। বাবার পরিচয়ের সূত্র ধরেই আমার পরিচয় হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অকুতোভয় সাংবাদিক সৈয়দ মতিউর রহমানের সাথে। তিনি আমাকে দেখেই বলেছিলেন, আনোয়ার ভাই আপনার ছেলেকে দিয়ে হবে। সেই ছোটবেলায় আমি ওনাদের কথার মাহাত্ম্য বুঝিনি। মতি কাকা এবং তার স্ত্রী কৃষ্ণা রহমান আমাকে সাপ্তাহিক মহানগরীতে একটা পার্ট টাইম কাজ দেন। মূলত এই মহান মানুষটির সান্নিধ্যই আমার জীবনের দিক পরিবর্তন করে দেয়।
এ আর জাফরী: আপনি ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিক হিসেবে মাঠে ছিলেন। তখনকার সেই উত্তাল দিনগুলোর কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা কি পাঠকদের জন্য শেয়ার করবেন?
মোঃ আলমগীর হোসেন: ৯০-এর আন্দোলন ছিল এক রক্তাক্ত ইতিহাস। বর্তমানের মতো তখন তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক তথা অবাধ ব্যবহার ছিল না। কোনো প্রতিনিধিকে সংবাদ পাঠাতে হলে ল্যান্ড ফোন থেকে সংবাদ বলতেন আর আমরা অফিসে বসে তা লিখতাম। মনে পড়ে এক রাতের কথা, কাজ শেষে গোলাপবাগের বাসায় ফিরছি, তখন শহরে সান্ধ্য আইন বা কারফিউ চলছে। ব্রাদার্স ক্লাবের সামনে এক দল সেনাসদস্য আমাকে থামালো। মেজর সাহেব যখন জানতে চাইলেন কেন বাইরে বেরিয়েছি, আমি আইডি কার্ড দেখালাম। তিনি যখন দেখলেন আমি সংবাদপত্রে কাজ করি, তখন সম্মানের সাথে আমাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই দিন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় আমাকে সসম্মানে বাসায় পৌছে দিয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সাংবাদিকের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ প্রশ্নোত্তর
সাক্ষাৎকারের এই পর্যায়ে এ আর জাফরী জনাব মোঃ আলমগীর হোসেনের কাছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানতে চান।
প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তার অভাব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। মফস্বল সাংবাদিকরা অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন, কিন্তু তারা উপযুক্ত সুরক্ষা পান না। মেঘনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমি মনে করি, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে আপনার অভিমত কী?
উত্তর: ওয়েজ বোর্ড সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সাংবাদিকদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে হলে এবং দুর্নীতিমুক্ত সাংবাদিকতা উপহার দিতে হলে নিয়মিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষ উভয়েরই দায়িত্ব।
প্রশ্ন: ডিজিটাল নিরাপত্তা বা সাইবার আইনের প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কতটুকু সুরক্ষিত?
উত্তর: আইন থাকা উচিত অপরাধ দমনের জন্য, সংবাদ টুটি চেপে ধরার জন্য নয়। একজন সাংবাদিক যখন তথ্য-প্রমাণ সহকারে সত্য প্রকাশ করেন, তখন তাকে আইনি হয়রানি করা মানে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কলম সৈনিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
Advertisement

প্রশ্ন: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা বা বাধার সম্মুখীন হলে সাংবাদিকদের করণীয় কী?
উত্তর: প্রথমত, তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নকে অবহিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পেশাগত সংহতি বজায় রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই কলমকে থামিয়ে দিতে পারবে না।
এ আর জাফরী: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মোঃ আলমগীর হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। দৈনিক ফিনিক্স বাংলার জন্য শুভকামনা রইল।

মেঘনা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ আলমগীর হোসেন


