(ভিডিও) ঘুমালে কি অজু ভেঙে যায়?

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,বিশেষ প্রতিনিধি,বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৬ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ছাড়া নামাজ, কোরআন তেলাওয়াতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালন করা জায়েজ নেই। অজু নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম শর্ত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজে দাঁড়াতে চাও; তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধোও, আর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধোও, মাথা মাসেহ কর এবং উভয় পা টাখনু পর্যন্ত ধোও। (সুরা মায়েদা ৬)

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

ঘুমের অবস্থায় মানুষের চেতনা ও নিয়ন্ত্রণ শক্তি দুর্বল হয়ে যায়। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, ফলে অজান্তেই বায়ু নির্গমনের সম্ভাবনা থাকে। ইসলামি শরিয়তে অজু ভঙ্গের অন্যতম কারণ হিসেবে বায়ু নির্গমনকে চিহ্নিত করেছে।

 

রসুল (সা.) বলেছেন, 
  

অজু ভঙ্গ হয় তখনই, যখন কেউ বায়ু নির্গমন শোনে বা অনুভব করে। (বুখারি, হাদিস: ১৩৭; মুসলিম, হাদিস: ৩৬২)

 

অতএব, ঘুম এমন একটি অবস্থা যা বায়ু নির্গমন ঘটতে পারে কিনা– এই নিয়ন্ত্রণকে অনিশ্চিত করে তোলে। এজন্য ঘুম অজু ভঙ্গের সম্ভাবনাময় অবস্থা হিসেবে গণ্য হয়।
 

ফলে আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুল (সা.) বলেছেন, 
  

যে ব্যক্তি ঘুমায়, সে যেন অজু করে নেয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ২০৩)

 

আরেক হাদিসে আনাস (রা.) বলেন, রসুল (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে বসতেন, তারা নামাজের অপেক্ষায় ঘুমিয়ে পড়তেন, পরে অজু না করে নামাজ আদায় করতেন। (মুসলিম, হাদিস: ৩৭৬)
 
এই দুটি হাদিসের মধ্যে আপাত বিরোধ নেই। প্রথম হাদিসে বলা হয়েছে, যে গভীর ঘুমে পড়ে যায়, তার অজু ভেঙে যায়। দ্বিতীয় হাদিসে উল্লেখ, যে সামান্য তন্দ্রায় থাকে বা বসা অবস্থায় ঝিমায়, তার অজু নষ্ট হয় না।
 
ফকিহগণ ‘চিৎ, কাত, ঠেক ও হেলান’ দিয়ে ঘুমানোকে অজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
 
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, যে ঘুমে চেতনা সম্পূর্ণ হারায়, তার অজু ভেঙে যায়। কিন্তু বসা অবস্থায় অল্প ঘুমে অজু নষ্ট হয় না। (শরহে মুসলিম, ৪/৭৩, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)
 
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)–এর মতে, ঘুম যদি এমন হয় যে শরীরের অঙ্গ শিথিল হয়, তবে অজু ভেঙে যায়; কিন্তু বসা বা দণ্ডায়মান অবস্থায় তন্দ্রা হলে ভাঙে না। (আল-হিদায়াহ, ১/৮৩, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, ২০০০)
  

অজু ভঙ্গের কারণ

 

এক বা একাধিক কারণে অজু ভঙ্গ হতে পারে। প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে প্রস্রাব, পায়খানা, বায়ু, কৃমি, মজি, মনি এবং মেয়েদের হায়েজ বা নিফাসের রক্ত বের হলে অজু ভঙ্গ হয়ে যায়। (আবু দাউদ ২০৬)।
 
শরীরের যেকোন অঙ্গ থেকে নাপাকি বের হওয়া অপারেশন করে পাইপের মাধ্যমে প্রস্রাব-পায়খানা বের করলে বা শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে বেশি পরিমাণ রক্ত, বমি বা পুঁজ বের হলে অজু ভঙ্গ হয়ে যায় । (ফাতাওয়া বিন বায৩/২৯৪)
 

Advertisement


গোসল ফরজ হয় এমন কিছু ঘটে যাওয়া, যেসব কারণে গোসল ফরজ হয় সেসব ঘটনায় অজুও ভঙ্গ হয়ে যায়। শুয়ে, চিৎ হয়ে বা ঠেস দিয়ে ঘুমানো, শুয়ে বা হেলান দিয়ে ঘুমালে অজু ভঙ্গ হয়। কিন্তু বসে বসে ঘুমালে অজু ভঙ্গ হয় না।
 
হুঁশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। পাগল, বেহুঁশ বা মাতাল হয়ে যাওয়া বা কোনো ঔষধ সেবনের কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অজু ছুটে যায়। (তিরমিজি ৯৬; মুগনী- ১/২৩৪)। মস্তিষ্কের বিকৃতি বা চেতনা হারিয়ে ফেললেও অজু থাকে না।