ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২৬ || চৈত্র ২১ ১৪৩২ || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের দাবি, এটা মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ মডেলের যুদ্ধবিমান। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে, যুদ্ধবিমানটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মডেলের।
ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটিতে থাকা পাইলটের অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একজন পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে ওই পাইলটকে আটক বা হত্যা করতে পারলে ‘বিশেষভাবে সম্মানিত করা’ হবে বলে জানানো হয়েছে।
শত্রুদেশের ভূখণ্ডে কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে পাইলট নিজেকে বাঁচাতে আসলে কী করেন? কীভাবে লুকিয়ে থেকে নিজেকে রক্ষা করেন? তাঁর মনোভাব কেমন থাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল। তিনি এখন মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজে কর্মরত।
ঘটনার সময় পাইলটের মনোভাবের বিষয়ে হিউস্টন বলেন, ‘তখন আপনার মনে হবে, হায় ঈশ্বর, দুই মিনিট আগেও আমি যুদ্ধবিমানটিতে ছিলাম। ঘণ্টায় ৫০০ মাইল গতিতে উড়ছিলাম। এরপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হলো। আক্ষরিক অর্থেই মাথা থেকে মাত্র ১৫ ফুট দূরে।’
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে পাইলট কী করবেন, সে বিষয়ে তাঁর পূর্ণ প্রশিক্ষণ থাকে। এর মধ্যে অনুসন্ধান, আটক হওয়া এড়ানো, প্রতিরোধব্যবস্থা, পালিয়ে থাকার মতো বিষয়গুলো থাকে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর প্যারাস্যুটে করে ভূমিতে নেমে আসার আগেই সেই প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিউস্টন বলেন, পাইলট তাঁর করণীয় সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো তথ্য প্যারাস্যুটে ভেসে ভূমিতে নেমে আসার সময় পেয়ে থাকেন। আপনি আসলে কোথায় লুকাতে চান, কোন জায়গা এড়িয়ে যেতে চান, সেসবের বিষয়ে তখনই ধারণা পাওয়া যায়।
‘চারপাশে তাকিয়ে এ সম্পর্কে ধারণা নিতে হয়। কেননা একবার ভূমিতে নেমে এলে আর বেশি দূর পর্যন্ত দেখা যাবে না’—বলছিলেন হিউস্টন। তাঁর ঝুলিতে প্রায় ৪০০ ঘণ্টা যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। ইরাক-আফগানিস্তানে অভিযানে অংশ নিয়েছেন। জটিল পরিস্থিতিতে প্যারাস্যুট নিয়ে অবতরণের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
ভূমিতে নেমে আসার মুহূর্তটা খুবই জটিল। কেননা এ সময় আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, বলেন হিউস্টন। তিনি আরও বলেন, প্যারাস্যুটে ভেসে নেমে এলেও ওই সময় পাইলট পায়ের পাতা, গোড়ালি বা পুরো পায়ে আঘাত পেতে পারেন।
সাবেক এই পাইলট বলেন, ভিয়েতনাম থেকে বেঁচে ফেরা অনেকের এমন আঘাতের প্রচুর ঘটনা আছে। ওই সময় অনেকে যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হাড় ভেঙেছেন।

প্যারাস্যুটে ভেসে নেমে আসার পরপর পাইলটকে নিজের অবস্থা খতিয়ে দেখতে হয়। বোঝার চেষ্টা করতে হয়, শারীরিক অবস্থা কেমন আছে? তিনি কি আদৌ চলাফেরা করতে পারবেন?—বলেন হিউস্টন।
হিউস্টনের মতে, পাইলট পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। তিনি (পাইলট) কোথায় আছেন? শত্রুপক্ষের এলাকায় নাকি নিরাপদ এলাকায়? কোথায় লুকাতে পারবেন? কীভাবে যোগাযোগ করবেন? এসব নিয়ে ভাবেন, বোঝার চেষ্টা করেন।
হিউস্টন বলেন, ‘যতটা সম্ভব শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়া এড়ানোর চেষ্টা করতে হয়। আর আমি যদি কোনো মরুভূমিতে অবতরণ করি, তাহলে আগে পানি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করব।’

সাবেক এই পাইলটের ভাষ্য, ‘ভূমিতে আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে আত্মগোপন করা। কারণ, আমি ধরা পড়তে চাই না। আমি এমন একটি জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে চাই, যেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করা যাবে।’
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

‘শহরে সেটা হতে পারে কোনো উঁচু ভবনের ছাদ। গ্রামে কোনো বিস্তৃর্ণ মাঠ। যেখানে সহজে হেলিকপ্টার নামতে পারবে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজ করতে পারবে’—বলেন হিউস্টন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন পাইলটদের কাছে একটি ছোট্ট বাক্স থাকে। তাতে রেডিও আর যোগাযোগের যন্ত্রাংশ থাকে। হিউস্টন আরও বলেন, তিনি যখন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে জরুরিভাবে বেরিয়ে আসতেন, তখন সঙ্গে একটি পিস্তল রাখতেন।



