ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ,সোমবার ৩০ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ১৭ ১৪৩২ || ১০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘ইরানের জ্বালানি তেল দখল’ করতে চান এবং দেশটির প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ কবজা করতে পারেন। এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। খবর এএফআরের।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার ‘পছন্দের কাজ হবে ইরানের তেল দখল করা’। তিনি এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশটির তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করছ
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং তেলের দাম এক মাসে ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে কি, আমার প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্বোধ লোক বলে, ‘আপনি কেন এমনটা করছেন?’ আসলে তারা বোকা মানুষ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের মানে হলো ইরানের খারগ দ্বীপ দখল করা, যার মাধ্যমে ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি হয়।
ট্রাম্প ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী বৃদ্ধি করছেন। পেন্টাগন ভূমি দখল ও তা ধরে রাখতে সক্ষম এমন ১০ হাজার সেনাকে সেখানে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। গত শুক্রবার ওই অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ নৌবাহিনী সদস্য রয়েছে। আরও ২ হাজার ২০০ নৌবাহিনী সদস্য পথে রয়েছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকেও সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের খারগ দ্বীপে হামলা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যা মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং যুদ্ধের ব্যয় ও স্থায়িত্ব উভয়ই দীর্ঘায়িত করতে পারে।
ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তবে এর অর্থ হবে আমাদের কিছু সময়ের জন্য সেখানে (খারগ দ্বীপে) থাকতে হবে।”
খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।”
তবে ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখলের হুমকি দিলেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানি ‘দূতদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় দেশটির জ্বালানি খাতে মার্কিন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আসন্ন দিনগুলোতে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে কি না- যার ফলে হরমুজ প্রণালি (বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল চলাচলের পথ) আবার খুলে যাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রায় ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে- আমরা ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা মেরেছি- আর কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি। একটি চুক্তি খুব দ্রুতই হতে পারে।”
ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের শুরুতে এবং পরবর্তী হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ইতিমধ্যে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন যাদের সঙ্গে কাজ করছি তারা সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী… (তারা) খুবই পেশাদার।”
এছাড়াও ট্রাম্প তার আগের দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন যে, খামেনির ছেলে অর্থাৎ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন অথবা গুরুতর আহত।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

ট্রাম্প বলেন, “ছেলেটি হয়তো মারা গেছে অথবা খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কিছুই শুনিনি। সে নেই।”
তবে তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতির কারণে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা তারা অস্বীকার করেছে।



