(ভিডিও)ইরাকের চালে ট্রাম্পের ঘুম হারাম, পালাচ্ছে মার্কিন সেনারা |

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ,শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৫ ১৪৩২ || ৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার মার্কিন সেনাকে বাধ্য হয়ে হোটেল ও অস্থায়ী অফিসে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সামরিক সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরান এই হামলা চালাচ্ছে। ফলে স্থলভিত্তিক মার্কিন সেনাদের বড় অংশ এখন দূর থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তবে বিমান চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া পাইলট ও সংশ্লিষ্ট ক্রুরা এখনও মাঠ পর্যায়েই কাজ করছেন।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আইআরজিসি ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সেনাদের নতুন অবস্থানের তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকান সেনাদের লুকানোর স্থান জানানো আপনার ইসলামী দায়িত্ব। তথ্য আমাদের টেলিগ্রামে পাঠান।’ এছাড়া ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন সেনারা হোটেলে অবস্থান করে বেসামরিক লোকজনকে ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের হুমকি তাদের অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ইরানের ভেতরে ও তাদের সামরিক অবকাঠামোতে সাত হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি।’

সেনাদের অস্থায়ী বা বিকল্প স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের মধ্যে হাজার হাজার সেনাকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে। এখনও অনেক সেনা মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন, কিন্তু তারা আগের ঘাঁটিতে নেই। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এতে যুদ্ধ পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ মাস্টার সার্জেন্ট ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট বলেছেন, ‘আমরা দ্রুত অস্থায়ী অপারেশন সেন্টার গড়ে তুলতে পারি; তবে সক্ষমতা কমে যাবে। সব সরঞ্জাম হোটেলের ছাদে বসানো সম্ভব নয়। কিছু বিষয় খুব জটিল।’

মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত অঞ্চলের ১৩টি ঘাঁটির অনেকই এখন বসবাসের অযোগ্য। বিশেষ করে কুয়েতের ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট শুয়াইবায় এক হামলায় একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টার ধ্বংস হয়ে ছয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুহরিংয়ে হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে হামলায় একটি সতর্কীকরণ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ড্রোন হামলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যোগাযোগ সরঞ্জাম ও জ্বালানি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, তীব্র বিমান হামলার পরও ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের সেনা ও স্বার্থ রক্ষা করছে। তবে প্রতিরক্ষা আরও জোরদারের চেষ্টা চলছে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের জন্য বড় সমস্যা হলো, ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতায় যুক্তরাষ্ট্র যে ঘাঁটি ও অবকাঠামো তৈরি করেছিল, তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান আগের প্রতিপক্ষের মতো নয়। তাদের কাছে উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।