(ভিডিও)ইরান-পশ্চিমা যুদ্ধ: কেন মস্কো ও বেইজিং শুধু বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ?

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২ || ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :

খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান যুদ্ধে রাশিয়া ও চীনের রহস্যময় নীরবতা কেন? সামরিক হস্তক্ষেপ না করার কারণ এবং তেহরানের সাথে তাদের চুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে পড়ুন বিশেষ বিশ্লেষণ।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলার পর বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন—তেহরানের পরম বন্ধু রাশিয়া ও চীন কোথায়? ১,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং খামেনির হত্যার পর ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং কঠোর নিন্দা জানালেও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে কেন অনাগ্রহী, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দূরত্বের পেছনে রয়েছে কৌশলগত চুক্তির মারপ্যাঁচ এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ।

১. রাশিয়া-ইরান: অংশীদারিত্ব আছে, সামরিক প্রতিরক্ষা নেই

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে। এটি বাণিজ্য, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ালেও এখানে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ নেই।

উত্তর কোরিয়া মডেল বনাম ইরান: রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার যে চুক্তি রয়েছে, তাতে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তিটি কেবল ‘প্রতিকূল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা’ এবং ‘সমন্বয়’ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

ঝুঁকি এড়ানোর নীতি: রুশ বিশ্লেষক আন্দ্রে কর্তুনভ আল জাজিরাকে জানান, ইরানের জন্য সরাসরি যুদ্ধে নামলে রাশিয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দরকষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

২. চীনের ভূমিকা: অর্থনীতি বনাম সামরিক হস্তক্ষেপ

চীনের সাথে ইরানের ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা চুক্তি থাকলেও বেইজিং শুরু থেকেই একটি ‘রেড লাইন’ বা সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে।

অস্ত্র না পাঠানোর নীতি: চীনা সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো জোডি ওয়েন জানান, বেইজিং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল। চীন সম্ভবত ইরানকে বাঁচাতে সরাসরি অস্ত্র বা সেনা পাঠাবে না।

বাস্তববাদী কূটনীতি: ইরানের তেলের ৮৭.২ শতাংশ চীনে রপ্তানি হয়। ফলে ইরানের স্থিতিশীলতা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জরুরি। বেইজিং এখন সামরিক শক্তির বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে (যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে) উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা আশা করেছিলেন যে, অন্তত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরেও মস্কো ও বেইজিং বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই দেশই কেবল ‘বিবৃতি’ এবং ‘জরুরি বৈঠকের অনুরোধ’ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিলান লোহ মনে করেন, চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা এখন মূলত ‘প্রতিরক্ষামূলক’। তারা মধ্যপ্রাচ্যের পূর্ণাঙ্গ পতন ঠেকাতে চায়, কারণ এতে তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকেই তারা এই ধরণের পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করেছে।

বিস্তারিত আলজাজিরার প্রতিবেদনে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ (ডানদিকে) এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি (বামে)।ছবি: সংগৃহীত