(ভিডিও)হানি ট্র্যাপ চক্রের এক নারীকে যেভাবে গ্রেফতার করলো পুলিশ

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,বিশেষ প্রতিনিধি,সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২ || ১৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ হানি ট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চক্রের নারীরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করার নামে ডেকে নিয়ে ফাঁদে ফেলেন। জিম্মি করে হাতিয়ে নেন মূল্যবান জিনিসপত্র।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, ওমর ফারুক, শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, ইয়াছিন, নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, কামরুল ইসলাম ও রাব্বি।

উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি বলেন, ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপথ মোড় থেকে চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখেন এবং মারধর করেন। এ সময় তারা অজ্ঞাতনামা দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবিও তুলে রাখেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা অপহৃতদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে আপত্তিকর ছবি তাদের পরিচিতজনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া তারা অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হীরার আংটিসহ বিকাশ, ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়।

অপর এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক মাধ্যমে গ্রেফতার সুমির সঙ্গে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে সুমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেন। ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে গিয়ে ওই ব্যক্তি সুমির সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সুমি ভিকটিমকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি সুমির বাসায় যান। বাসায় প্রবেশ করার ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার কাছে আট লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে হত্যার হুমকি দেন। তখন তিনি নিরুপায় হয়ে তার সঙ্গে থাকা ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটি আংটি ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় মামলা হয়।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পৃথক ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানাতে পারে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরা থানার একাধিক টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, চক্রের সদস্যরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে এবং ফাঁদে ফেলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।