ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি,শুক্রবার ০২ জানুয়ারি ২০২৬ || পৌষ ১৮ ১৪৩২ :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও বার্তা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নিজের অবস্থান ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর তার বক্তব্যের সত্যতা এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
Advertisement
এই প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল অনুসন্ধান ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ ভিডিওটি যাচাই করে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজে জানায়, আলোচিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়।
‘দ্য ডিসেন্ট’-এর যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান ফয়সালের চেহারা, মুখভঙ্গি ও নড়াচড়া তার বাস্তব চেহারা ও আচরণের সঙ্গে পুরোপুরি সাযুজ্যপূর্ণ। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ বিশ্লেষণসহ চারটি নির্ভরযোগ্য এআই যাচাই টুল ব্যবহার করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভিডিওর কিছু ফ্রেমে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানিয়েছে, এটি ভিডিও ধারণের সময় ব্যবহৃত কোনো ফিল্টারের কারিগরি ত্রুটি। এ কারণে পুরো ভিডিওকে এআই-সৃষ্ট বলা যায় না।
ভিডিও বার্তায় ফয়সাল করিম দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ভিডিও দেখে তার ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য তথ্য—যেমন লোকেশন ডেটা বা পাসপোর্টের সিল, উপস্থাপন করেননি।
Advertisement

হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ে ফয়সাল দাবি করেন, শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে ‘দ্য ডিসেন্ট’ এই দাবিকে সরাসরি মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের আগের বিশ্লেষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি চালিয়েছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ নিজেই এবং চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমেও এ তথ্য প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া ভিডিওতে ফয়সাল অভিযোগ করেন, ওসমান হাদী মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে হাদীর মৃত্যুর পর এ দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জীবিত অবস্থায় হাদীর বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ ছিল না। বরং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার ছিলেন।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদী। জুমার নামাজ শেষে মতিঝিল মসজিদ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

Advertisement
এ জে সেন্টারে বিত্রুয় প্রতিনিধি আবশ্যক
__________________________
এ সি,ডিসি লাইট,বাথ ব্যাথা,চুলকানীর মলম,ইত্যাদি বিক্রয় করা হয়।
বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাইকেল ও মোবাইল দেওয়া হয়, আলোচনাশাপেক্ষে।
যোগাযোগ করুন-মোবাইল : ০১৯৭৮৬২৪২০৫
এ জে সেন্টার
বারদি সোনারগাঁও বাজার
জেলা- নারায়নগঞ্জ
_________________________


