ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি, বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি ২০২৬ || পৌষ ১৮ ১৪৩২ :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
Advertisement
ভিডিওতে ফয়সাল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে কেবল ভিডিওর মাধ্যমে তার ভৌগোলিক অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য তথ্য যেমন লোকেশন ডেটা বা পাসপোর্টের সিলও উপস্থাপন করেননি। এছাড়া ভিডিওতে ফয়সাল জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ এই দাবিকে সরাসরি মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিমই মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি চালিয়েছিলেন এবং চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমও এ তথ্য সপ্রমাণভাবে প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে ফয়সাল অভিযোগ করেছেন, হাদি তাকে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন, তবে হাদির মৃত্যুর পর এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

হাদি জীবিত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো তদবির বা বাণিজ্য সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল না। বরং তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ভিডিও প্রকাশের পর জনমনে বিভ্রান্তি কমাতে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সৃষ্ট নয়। কিছু ফ্রেমে ফয়সালের থুতনির দাড়ি অদৃশ্য হওয়ার বিষয়টি ভিডিও ধারণের সময় ব্যবহৃত ফিল্টারের প্রভাব।
হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে, পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
Advertisement

হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।



