নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ভেঙে পড়ছে
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সৌজন্যে,রোববার ৩১ আগস্ট ২০২৫ || ভাদ্র ১৬ ১৪৩২ :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ নদী ভাঙনসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আশুগঞ্জ নৌবন্দর এলাকা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ তীরবর্তী এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুগঞ্জ বন্দর এলাকা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী মেঘনা নদীতে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে বেপরোয়া বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ভেঙে পড়ছে, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
Advertisement
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ঢাকা-সিলেট করিডোর মহাসড়কের বালুর চাহিদার কথা বিবেচনা করে মহাসড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিগো মীর আক্তারের প্রতিনিধি ‘এ২ বি’ কর্পোরেশনকে তিন মাসের জন্য মেঘনা নদীর বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু তোলার অনুমতি দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নিশান দিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
আশুগঞ্জ জেনারেল মার্সেন্ট এন্ড কমিশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, “এ অবস্থা চলতে থাকলে তীরবর্তী এলাকা তো বটেই, আশুগঞ্জ বন্দরও হুমকির মুখে পড়বে। আমরা ইজারা বাতিলের আবেদন করেছি, প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হব।”
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের জন্য বালুর চাহিদা থাকায় তিন মাসের জন্য মীর আক্তারের প্রতিনিধিকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সীমানা অতিক্রম কিংবা চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে মীর আক্তারের প্রতিনিধি কামাল আহমেদ জয় দাবি করেন, তারা ইজারার শর্ত মেনেই বালু উত্তোলন করছেন। তবে ভৈরবের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে-যার দায় অন্যায়ভাবে তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “সরকারি দপ্তরের একাধিক প্রতিবেদনেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, এ এলাকায় বালু তুললে ভয়াবহ ক্ষতি হবে। তারপরও অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে।”
Advertisement
