ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ প্রতিনিধি, রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:
‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ, ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদা না পেলে লোক পাঠিয়ে হামলার হুমকি দিয়ে এভাবেই এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছেন সাব্বির হোসেন ওরফে সানি। শুক্রবার রাতে নারায়াণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
-
Advertisement
-

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
পুলিশের ভাষ্য, সাব্বির বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে হামজারবাগের বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। ফোনে তাকে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। তার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। যদি ক্লিয়ার না করো, তবে ফ্যামিলির যেকোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’
পুলিশ জানায়, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। চাঁদার জন্য হুমকির ঘটনার পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলিও করা হয়। এরপর থেকে সাব্বিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এ ব্যাপারে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদের পাশাপাশি তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করতেন সাব্বির।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাব্বির প্রকাশ্যে কম আসতেন। তার কাজ ছিল সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোন করে চাঁদা দাবি করা। যেসব ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাদের বিষয়ে আগেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর সাব্বির ফোন করে চাঁদা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটাতেন।’
মাসুদ আলম বলেন, ‘গ্রেফতার সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তিনি চাঁদা দাবি করলেও ভয়ে বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা করেননি।’
-
Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায় সাব্বিরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে এ দৃশ্য ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল উঁচিয়ে তাকে আবারও গুলি করতে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি সাব্বির।



