(ভিডিও) নবজাতক বিক্রির হাটের খোঁজ, চার লাখ টাকায় মিলে শিশু

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি, রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

একটি নবজাতকের দাম উঠেছিল মাত্র চার লাখ টাকায়। অসহায় মা-বাবার কোল কিংবা হাসপাতাল থেকে কৌশলে শিশু হাতিয়ে নিয়ে রাজধানীতে গড়ে তোলা হয়েছিল এক ভয়ংকর কেনাবেচার সিন্ডিকেট। রাজধানীর বুকে গোপনে চলা এমন এক নবজাতক বিক্রির হাটের খোঁজ পেয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ২৪’–এর বিশেষ অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’। পরে ক্রেতা সেজে ফাঁদ পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় চক্রটির সাত সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে এক ফুটফুটে নবজাতককে।

  • Advertisement

    • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

‘সার্চলাইট’–এর হয়ে চাঞ্চল্যকর এই অনুসন্ধানটি চালান প্রতিবেদক আমান নবী ও চিত্রগ্রাহক এ কে টিপু। তাঁদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে রাজধানীতে নবজাতক কেনাবেচার পেছনে সক্রিয় শক্তিশালী এক সিন্ডিকেটের তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মাতুয়াইল, কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকার অসাধু ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নবজাতক কেনাবেচার এই অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছিল। অসহায় পরিবারের সদ্যোজাত শিশু কিংবা পরিচয়হীন নবজাতকদের নিশানা বানিয়ে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিক্রি করাই ছিল চক্রটির কাজ।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ক্রেতা সেজে চক্রের অন্যতম সদস্য রিমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘সার্চলাইট’ দল। কয়েক দফা আলোচনার পর রিমা একটি নবজাতকের দর ঠিক করেন চার লাখ টাকা। বিশ্বাস অর্জনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চক্রটিকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হলে তারা নবজাতকের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে শিশুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় স্থান পরিবর্তনের পর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ডৌরাণী ব্রিজ সংলগ্ন ‘ওয়ান স্টপ ক্লিনিক’-এ শিশুটিকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে চার লাখ টাকার চূড়ান্ত লেনদেন ও নবজাতককে তুলে দেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলে অভিযান চালানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকেই সুস্থ অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় রিমা আক্তারসহ চক্রের সাত সদস্যকে। উদ্ধারের পর শিশুটির সুচিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিশু নিখোঁজের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান  
রাজধানীতে নবজাতক বিক্রির এই চক্র ধরা পড়ার ঘটনার মধ্যেই দেশে সামগ্রিক শিশু নিখোঁজ ও সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু।

পুলিশের পরিসংখ্যানে বয়সভেদে নিখোঁজের যে চিত্র পাওয়া গেছে:  
১. শূন্য থেকে ৯ বছর বয়স: এই বয়সের শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সারা দেশে ৪৭৪টি জিডি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ জন।
২. ১০ থেকে ১৭ বছর বয়স: এই বয়সসীমার মধ্যে নিখোঁজ হয়েছিল ১৫ হাজার ২৪৩ জন। যার মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১ হাজার ৯৭০ জন।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে বড় একটি অংশ পারিবারিক কলহ বা অভিমানে বাড়ি ছাড়লেও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে চুরির পর পাচার ও কেনাবেচার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ হওয়া অন্তত ৩৬টি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নিখোঁজ শিশুদের একটি অংশ যদি এ ধরনের সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে, তবে তা সমাজ ও পরিবারের জন্য চরম বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  • Advertisement

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক বা নার্স এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।