(ভিডিও)ভিক্ষুকের মাসিক আয় ৬০ হাজার, থাকেন আবাসিক হোটেলে

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ভোলার চরফ্যাশন প্রতিনিধি, শনিবার,৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৪ কার্তিক ১৪৩৩১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

সকালবেলা ফিটফাট হয়ে ঘর থেকে বের হন। পরনে থাকে ধর্মীয় লেবাস- মাথায় টুপি, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের মানুষ জানেন, তিনি চরফ্যাশন শহরে ভালো একটি চাকরি করেন। কিন্তু এই ‘চাকরিজীবী’ পরিচয়ের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন গল্প। তিনি আসলে একজন ‘পেশাদার’ ভিক্ষুক। মায়াকান্না আর দুঃখের গল্পের পসরা সাজিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।
  • Advertisement

    • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এই বৃদ্ধের অভিনব ভিক্ষাবৃত্তি এখন টক অব দ্য টাউন। গত শুক্রবার রাফিজ মালতিয়া নামের স্থানীয় এক যুবক এই বৃদ্ধের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধের বাড়ি বরিশালের উলানিয়া এলাকায়। চরফ্যাশন সদরের একটি আবাসিক হোটেলে থেকে তিনি এই কারবার চালান। প্রতিদিন সকালে পরিপাটি হয়ে বের হয়ে তিনি অবস্থান নেন হাসপাতাল রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে। বিশেষ করে রিকশা বা ইজিবাইকের নারী যাত্রীদের টার্গেট করে শোনান জীবনযুদ্ধের করুণ কাহিনী। তার অভিনয় এতই নিখুঁত যে, যে কেউ তার দুঃখের গল্প শুনে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিতে বাধ্য হন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করেন। সেই হিসেবে মাসে তার আয় দাঁড়ায় ৬০ হাজার টাকার ওপরে। যা একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার বেতনের চেয়েও বেশি।
ভিক্ষার সময় ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করলেও ওই বৃদ্ধের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, টুপি-পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় দাঁড়ালেও তাকে কখনো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে দেখা যায় না। উল্টো সুযোগ পেলেই রাস্তার আড়ালে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখা যায়।
  • Advertisement

ভিডিও প্রকাশকারী রাফিজ মালতিয়া জানান, এই বৃদ্ধ কেবল ভিক্ষাই করেন না, বরং সাধারণ মানুষকে চরমভাবে বিরক্ত করেন। বিশেষ করে নারীদের শরীরের কাছে গিয়ে স্পর্শ করে টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি কখনোই নিজের প্রকৃত পরিচয় বা নাম প্রকাশ করতে চান না।
সংগৃহীত ছবি