নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই (ভিডিও)

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জতিক  প্রতিনিধি,বুধবার,২৮ অক্টোবর ২০২৬,১২ কার্তিক ১৪৩৩১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে (নেসেট) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। প্রাথমিক জরিপে বিরোধীরা এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ব্যবধান কমে এসেছে। কোনো কোনো জরিপে দুই পক্ষের সমান আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ইসরায়েলের প্রধান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এবং টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৩’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোট উভয়ই ৫১টি করে আসন পেতে পারে।

 

অন্যদিকে,  চ্যানেল ১২ তাদের জরিপ সংশোধন করে জানিয়েছে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫০টি এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক জরিপে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সামান্য এগিয়ে ছিল।

ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১টি আসন। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে আরব দলগুলো (জয়েন্ট লিস্ট এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম) সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দৌড়ে এই দলগুলোই এখন ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা প্রায় ৩০ বছর বা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। গত ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ায় প্রচারে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

কোনো পক্ষই এককভাবে ৬১ আসন নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে তীব্র দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। নেতানিয়াহু একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে এবং আইজেনকোট বৃহত্তর জোটের নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন।

 

চ্যানেল ১৩-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’ এককভাবে ২৭টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’ ২৩টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের ‘টুগেদার’ জোট ১৩টি আসন পেতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পারে, তাহলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে- যখন দেশটিতে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

  • Advertisement

ইতিমধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু করেছে। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে কিছু ব্যবধান থাকতে পারে, তাই চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: আনাদোলু, বিবিসি

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী জোটের গাদি আইজেনকোট। ছবি: বিবিসি