(ভিডিও)ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,পাবনার সদর প্রতিনিধি, সোমবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৬ আশ্বিন ১৪৩৩০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

 

পুলিশের ভাষ্য, মোস্তফা মাগরিবের নামাজের জায়নামাজ থেকে ওঠার পরপরই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার কাজেও অংশ নেন তিনি।

 

পুলিশ বলছে, কলিকে হত্যার পর শরীরে লেগে থাকা রক্ত মুছতে গোসল করেন মোস্তফা এবং রাত ১০টার দিকে আবার তার মুদি দোকান খোলেন। রিমান্ডে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা বলেছেন তিনি।

তবে, অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং তিনি ওই কাজে সহযোগিতা করেছেন শুধু।

 

‎গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেনু রায় পিপিএম বলেছেন, কলির মরদেহ উদ্ধারের দিনেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। আটক করার সময় মোস্তফার আচরণেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তে মোস্তফার নাম সামনে আসে। এর পর স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যকে বলা হয়, তাকে গিয়ে দেখার জন্য। মেম্বার গিয়ে তার এক হাত ধরার পর তিনি কাঁপতে শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তার বুকে কান লাগিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারে এবং তাকে তাৎক্ষণিককে আটক করা হয়।

 

‎বেনু রায় জানান, তদন্তে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। কলি নিখোঁজের পর কয়েক দিন ধরে মোস্তফা নিহত শিশুটির বাবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। কলির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গভীর রাতে মোবাইল ফোনে তার নিখোঁজের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতেন মোস্তফা। এমনকি, কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তিনি অংশ নিয়েছেন। কলির মরদেহ উদ্ধারের সময় মোস্তফা সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই অবস্থান করছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইল ফোনে শিশুটির একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তোলেন। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে এসব ছবি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি পুলিশের। এর পর সন্ধ্যায় স্থানীয় সাহেব আলীর ছেলের সঙ্গে মোস্তফার দোকানের সামনে বসে ছিলেন কলি। সাহেবের স্ত্রী খুশি খাতুন তার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এ সময় তিনি মোস্তফাকে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে দেখে যান। কলিও দোকানের সামনে বেঞ্চের ওপর বসেছিল। নামাজ পরেই তাকে মুদি দোকানের পিছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন মোস্তফা। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, মোস্তফার মোবাইল ফোনে তার দোকানে আসা বিভিন্ন কম বয়সী মেয়ের আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে।

পুলিশের ভাষ্য, এতে তার আগের আচরণ সম্পর্কেও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তিনি আগে থেকেই দুশ্চরিত্র ছিলেন।

 

‎তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কিছু পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া বাকি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর সব আলামত রাজশাহীতে সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে, ধর্ষণে দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন। এর পর দুই আসামিরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

‎বেনু রায়ের তথ্য অনুযায়ী, মোস্তফা জানিয়েছেন, দুজন মিলে ধর্ষণ করেছেন। আর ইয়াসিন বলছেন, তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কোনোটির সঙ্গেই জড়িত নন। হত্যার পর মোস্তফা সহযোগিতা চেয়েছিলেন, তাই তিনি কিছু সহযোগিতা করেছেন। ফরেনসিক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।

‎তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দুটি ভিন্ন ব্যক্তির বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে।

‎এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

মরদেহের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা টের পেয়ে পুলিশের খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়।

দুজনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও দ্রুত স্বীকার করায় রিমান্ড আগেই শেষ হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় গত তিন দিন ধরে অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়িটি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িটি প্রায় ৮০ শতাংশ ভাঙচুর হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

  • Advertisement

সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা আদালত ও ডিসি অফিস ঘেরাও করে নিহতের স্বজন ও সাধারণ জনগণ। বিচারে কালক্ষেপণ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পাবনার সদর উপজেলার শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ