(ভিডিও)হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা ঘটনা আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,ফেনীর সোনাগাজী প্রতিনিধি, সোমবার   ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||  ভাদ্র ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তিনি বলেছেন, “এ রায়ের মধ্য দিয়ে নুসরাতের ঘটনাটি যে আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড ছিল- তা প্রমাণিত হয়েছে।”

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

 

শিরিন আক্তার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে এটাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে এটা যে হত্যাকাণ্ড ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”

 

সোমবার বহুল আলোচিত এ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

 

সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পড়ে শোনান। রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাস কক্ষে আসামি ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

 

রায়ে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন- উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

 

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন- মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, কামরুন নাহার মনি ও অপর একজন।

এর আগে, গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মামলা তুলে না নেওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেন। রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

  • Advertisement

পরে ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হওয়ার পর আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামি খালাস পেলেন।