
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ || ভাদ্র ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
দেশীয় রক সংগীতের অন্যতম তারকা শিল্পী ‘নগর বাউল’ খ্যাত জেমসের ইতালির রোমের কনসার্ট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা হচ্ছে। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মতো নানা অভিযোগ দেখা যাচ্ছে সেসব চর্চায়। দাবি করা হচ্ছে―কনসার্ট শেষে নোংরা রেখে হোটেল রুম ছেড়েছেন গায়ক ও তার সফরসঙ্গীরা। ফলে হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতার জন্য তাদের ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে বলেছেন।
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
এ নিয়ে যখন নানা আলোচনা-সমালোচনা, তখন জানা গেল―অভিযোগটি সরাসরি জেমসের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে ব্যান্ড তারকার ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন জানিয়েছেন, যে রুম নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেই রুমে ছিলেনই না গায়ক।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে পারফর্ম করার জন্য নগরবাউল ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট নেন। হোটেল থেকে চেক-আউটের পর একটি কক্ষের কিছু ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক কর্তৃপক্ষের আলাপচারিতার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এতে হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, রুম অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের না জানিয়েই চলে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে, রুমের মেঝেতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পানির বোতল ও বিভিন্ন আবর্জনা পড়ে আছে। ডাইনিং ডেবিলে কয়েকটি ব্যবহৃত প্লেট, পলিথিনের ব্যাগ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট। আবার কিচেনের সিঙ্কে নোংরা প্লেটের পাশাপাশি কয়েকটি কাঁচা ডিম পড়ে আছে। এ কারণে হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজন প্রতিনিধিকে দেয়া মেসেজে রুমের পরিস্থিতি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায়। আর আগামীতে হোটেলটির সার্ভিস নিতে চাইলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো দিতে হবে বলেও জানায় হোটেল কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে নগরবাউলের ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, হোটেলটিতে আমাদের মোট রুম ছিল চারটি। এর মধ্যে ৩৪৫ নম্বর রুমে ছিলেন জেমস, আমি ছিলাম ২৪৬ নম্বর রুমে। হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ৫৪৯ নম্বর রুম নিয়ে, সেখানে দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান ছিলেন। এ জন্য একজনের রুমের অবস্থার দায়ভার জেমসের ওপর দেয়া ঠিক হবে না। তিনি বাংলাদেশের অনেক বড় একজন তারকা। তাকে নিয়ে এভাবে এমন মিথ্যাচার কাম্য নয়।

এ দিকে নিয়ম না মেনে বা রিসিপশনে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই হোটেল ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে গায়ক ও তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেমসের ম্যানেজার বলেন, এতজন মানুষ, এতসব ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে কি কোথাও থেকে পালিয়ে আসা যায়? এসব মূলত মিথ্যা অভিযোগ। হয়তো আয়োজকদের ইন্টারনাল কোনো সমস্যায় বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সেখান থেকে আমরা সবার সামনে দিয়ে বের হয়েছি।
-
Advertisement

এছাড়া কনসার্টকে কেন্দ্র করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব অর্থের হিসাব দিতে নাকি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন গায়কের ম্যানেজার। এ কারণে নাকি পুলিশও ডাকা হয়েছিল।

এ অভিযোগের ব্যাপারে রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, অন্যসব কনসার্টের মতো এটি নিয়েও আয়োজকদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে। আমরা যদি চুক্তির কোনো কিছু অনুসরণ না করে থাকি, তাহলে তারা আমাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমরা ভেনিসে এসেছি, ইতালির বাইরে যাইনি। যদি আমরা চুক্তি ভঙ্গ করতাম, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতো পুলিশ। বরং তারা এসব করে বিশ্ব দরবারে ছোট করছেন বাংলাদেশকে।


