৩ কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ জাকিরের বিরুদ্ধে

SHARE

 

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম, বার্তা উম্মোচন পত্রিকার সৌজন্যে,বুধবার,০৫ আগস্ট ২০২৬,২১ শ্রাবণ ১৪৩৩২১ সফর ১৪৪৮ :

মাত্র ৬৭টি গাড়ি প্রায় ৭০০ জনের কাছে বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজ এলাকার প্রবাসীদের প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

  • Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

ভুয়া ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী তিন উত্তরাধিকারীর প্রায় ৮৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ জমি অন্যের নামে নিবন্ধন করেছে জাকির হোসেন। জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

 

গত ২১ মে ২০২৬ মেঘনা উপজেলার জয়পুর মৌজার ১০টি বিএস দাগভুক্ত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সুলতানা হামিদা, কুমকুম আক্তার ও রুশ আক্তারের নামে থাকা মোট ৮৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মাধবপুর গ্রামের রাকিবুল হাসানের নামে নিবন্ধন করা হয়। দলিলটির নম্বর ২২৫৭। অথচ প্রকৃত মালিকরা গত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। তারা দেশে না এসেই কীভাবে তাদের নামে দলিল সম্পন্ন হলো, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এ ঘটনায় প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে অজ্ঞাতপরিচয় তিন নারীকে হাজির করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে দলিলটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, পুরো ঘটনাটি আড়াল করতেই চেয়ারম্যান জাকির হোসেন নিজের নামে জমি নিবন্ধন না করে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাকিবুল হাসানের নামে দলিলটি সম্পন্ন করিয়েছেন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীকে আড়ালে রেখে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিসহ অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকৃত মালিকদের জমি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া এবং এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল গ্রহীতা রাকিবুল হাসান অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি নামমাত্র দলিল গ্রহীতা। কাজটি ভুল হয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

দলিল লেখক জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। কাগজপত্র ভুয়া কি-না, তা আমার জানা নেই।”

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • Advertisement

এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মিলন কুমার শিবলী বলেন, “দলিল নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনলাইন কপি ছিল এবং তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান জাকির হোসেনও সেখানে ছিলেন। তবে কাগজপত্র ভুয়া কি-না, তা নিবন্ধনের সময় আমার পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।”