ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,হাসপাতাল প্রতিনিধি, সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ১৯ ১৪৩৩ || ১৯ সফর ১৪৪৮ হিজরি :
হাসপাতাল যেন ভরে উঠেছে তেলাপোকায়। যেখানে চোখ যায় সেখানেই এই প্রাণীটির সরব উপস্থিতি। তেলাপোকার কারণে হাসপাতালের বেডে থাকা দায় হয়ে পড়েছে রোগীদের জন্য। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে রোগীদের মূল্যবান সব খাবার। এ চিত্র পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।
-
Advertisement

-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
রোগী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর, রোগীদের শয্যা এবং খাবার রাখার স্থানজুড়ে হাজার হাজার তেলাপোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই পতঙ্গের সবেচেয়ে বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে হাসপাতালের বেড গুলোতে। যা দেখলে মনে হচ্ছে, এ যেন তেলাপোকার বসতঘর।
হাসপাতালের দেয়ালে তেলাপোকা
রোগীরা জানান, তেলপোকার উৎপাতে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তারা। অনেক সময় ঘুমিয়ে থাকলে তেলাপোকা মুখের ওপর উঠে আসে। আবার খাবারের মধ্যেও তেলাপোকা ও তাদের বিষ্ঠা পাওয়া যায়। যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলাপোকা নিধনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। তারা হাসপাতালে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি সায়েম হোসেনের (৪) মা রাবেয়া আক্তার বলেন, “মাস ছয়েক আগে আমার সন্তানকে নিয়ে আমি এই শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলাম। তখন তেলাপোকার উপস্থিতি ছিল তবে এত বেশি নয়। এখন এ পোকার উৎপাতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। রাতে না ঘুমিয়ে সন্তাকে পাহারা দেই, যাতে তার শরীরে তেলাপোকা প্রবেশ করতে না পারে।”
-
Advertisement

একই ওয়ার্ডের শিশু মরিময়ের (৩) বাবা ইয়াসিন বলেন, “বিছানা উল্টালেই হাজার হাজার তেলাপোকা বেরিয়ে আসে। দুপুরে খাবারের মধ্যে তেলাপোকার বিষ্ঠা দেখেছি। তাই আর খেতে পারিনি। এই হাসপাতালের এমন কোন স্থান নেই যেখানে তেলাপোকা নেই। তেলাপোকা বাড়লেও তা নিধনে কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।”
তোশক উঠিয়ে তেলাপোকার অবস্থান দেখাচ্ছেন এক রোগীর স্বজন
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “হাসপাতালে আগের চেয়ে হঠাৎ তেলাপোকার উপস্থিতি বেশি বেড়েছে। এই পতঙ্গ নিধনে আমরা নিয়মিত ওষুধ স্প্রে করছি। ন্যাফথালিন দেওয়া হচ্ছে। তারপরও পুরোপুরি নিধন করা যাচ্ছে না। এখন প্রয়োজন ওয়ার্ডগুলো একেবারে ফাকা করে নতুন ভাবে পরিচ্ছন্ন এবং কীটনাশক দিয়ে তেলাপোকাগুলো মেরে ফেলা। এছাড়াও, অন্য কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা আমরা সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”



