ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,চাঁদপুরের শাহরাস্তি প্রতিনিধি,শনিবার,০১ আগস্ট ২০২৬,১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩১৭ সফর ১৪৪৮ :
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় জনতার হাতে আটক এক চিহ্নিত মাদক কারবারির মোবাইল ফোনে ৬ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন ও অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কল রেকর্ড পাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Advertisement

-
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছেন কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই। তিনি বলেছেন, “যার সাথে কথা হয়েছে পুলিশ সদস্যদের, তার নাম মিজানুর রহমান। তার বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা আছে। এগুলোর মধ্যে সাতটিই মাদকের মামলা। তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট বর্তমানে নেই, অর্থাৎ সে জামিনে রয়েছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা করছি।”
মো. আব্দুল হাই বলেন, “ওই চিহ্নিত মাদক কারবারীর সাথে ৬ পুলিশ সদস্যের আর্থিক লেনদেন ও তাদের যোগসাজশে সে মাদক ব্যবসা করছিল কি না, এসব খতিয়ে দেখতে আমাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত করেছেন পুলিশ সুপার। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের যোগসাজশ পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে চাঞ্চল্যকর তথ্য এ প্রতিবেদকের হাতে আসে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি এক ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদক ব্যবসায়ী মিজানকে প্রধান অতিথি করেন এলাকাবাসীর একাংশ। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জোবায়েদ কবির বাহাদুর। তার ইশারাতেই মিজানকে আটকে মারধর করেন তার সমর্থকরা। পরে মিজানের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্টতা ও তাদের সঙ্গে নানা সময়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
গত ২৮ জুলাই বেলা ১১টায় স্থানীয় বাসিন্দারা আয়নাতলী এলাকার মিজানুর রহমানকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। এ সময় উপস্থিত লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য পান। ভবিষ্যতে ওই মাদক কারবারি আর কখনো এ ব্যবসায় জড়িত হবেন না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে সব স্ক্রিনশট রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকের পর ধারণ করা ভিডিওতে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন, এসআই মিঠু দাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহিদুল্লাহ, এএসআই এরশাদ মিয়া, এসআই রফিকুল ইসলাম এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অসংখ্য চ্যাট ও কল রেকর্ড পাওয়া যায়। কয়েকটি কথোপকথনে অর্থ লেনদেনের বিষয়ও উঠে এসেছে।
একটি কল রেকর্ডে শোনা যায়, মিজানুর রহমান একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, “ভাই, বিকাশে খরচসহ ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি।”
এএসআই সহিদুল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের অপর একটি রেকর্ডে শোনা যায়, “১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছি, বাকিটা পরে দেব।”
এএসআই সহিদুল্লাহর সঙ্গে আরেকটি চ্যাটে ‘আগামীকালের মধ্যে ৫০ শেষ করবি’-এমন একটি বার্তা পাওয়া পাওয়া যায়।
পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামের সঙ্গে মিজানের কল রেকর্ডে ‘৫ হাজার ১০০ টাকা খরচসহ দিয়েছি’ বলতে শোনা যায়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে গেলে এএসআই সহিদুল্লাহ ক্যামেরার মুখোমুখি হতে চাননি। তিনি বলেন, “স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আর পুরো কাজটা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। স্যাররা তদন্ত করছেন। তাই, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।”
এ অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আপনারা দেখেন, এসব চ্যাট একপাক্ষিক। আমি কোনো রিপ্লে দিইনি। আমার মান-সম্মান সব শেষ। প্রতিনিয়ত মানসিক টর্চারের শিকার হচ্ছি। আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।”
এসআই মিঠু দাস বলেন, “ভাই, আমি এখন অনেক অসুস্থ। তাই, এখন এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন স্যার তদন্ত করছেন। যা বলার তিনিই বলবেন।”
Advertisement

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের মুখোমুখি হয়েছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জোবায়েদ কবির বাহাদুর। তিনি বলেন, “এলাকায় যারা মিজানকে ফুটবল খেলায় প্রধান অতিথি করে, এরা হচ্ছে বিপথগামী। এজন্য এলাকার ছেলেরা মিজানকে আটক করে তার মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করে। এতে মিজানের সাথে পুলিশ সদস্যদের শেল্টারিং-ভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পায়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত হয়েছি। এই মিজান সরকারি জায়গা দখল করে দোকান করলে সেটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এর পর তাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হাতেও তুলে দিয়েছি। এরপরও কাদের সহায়তায় সে এলাকায় মাদক বিক্রি করত, তা এবার প্রকাশ্যে এলো। আমরা ইউনিয়নবাসী এ মাদক কারবারি ও তাকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখতে চাই।”

চাঁদপুরে মাদক কারবারির সঙ্গে ৬ পুলিশ সদস্যের লেনদেনের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি


