(ভিডিও)মডেলকে বেঁধে নির্যাতন: নজরুলের খুটির জোর কোথায়?

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.কম,বিনোদন প্রতিনিধি,বুধবার,২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩১৪ সফর ১৪৪৮ :

টেলিভিশনের পর্দায় নান্দনিক আর চোখ ধাঁধানো এই বিজ্ঞাপনী চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল অন্য এক বাস্তবতা।  আলাদিনের চেরাগও বোধ হয় নজরুল ইসলামের এই অবিশ্বাস্য উত্থানের কাছে হার মানবে। একটা সময় যার পরিবার মাছ ধরে এবং মাছ বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করত, সেই নজরুল ইসলাম নামেন জমির দালালি ও কেনাবেচায়। বিভিন্ন সরকারের  রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাতারাতি বনে যান হাজার কোটি টাকার মালিক।

Politics
YouTube player

সাধারণ মানুষের প্লট কেনার স্বপ্নকে পুঁজি করে কীভাবে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন এই নজরুল? অভিযোগ রয়েছে—দরিদ্র মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল, জাল দলিল তৈরি আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ‘ভূমিদস্যুতার’ মাধ্যমে গড়ে উঠেছে তার এই টাকার পাহাড়। এমনকি তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক হত্যা মামলাও!

  • Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

ক্ষমতার পালাবদল হলেও যার দাপট কমেনি এতটুকুও।  এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে এক মডেলকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ! কিন্তু এত কিছুর পরও কীভাবে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরছেন এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী?

সবচেয়ে চমকে ওঠার মতো তথ্য হলো, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকেও টাকা দিয়ে কেনার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন এই নজরুল! দেশের খোদ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে  কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর সংবাদ তখন সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

News

অভিযোগ রয়েছে, আশিয়ান  সিটির একটি বড় আবাসন প্রকল্পের অবৈধতা নিয়ে চলা মামলায় নিজের পক্ষে রায় বাগিয়ে নিতে পর্দার আড়ালে চলে এই বিশাল অঙ্কের টাকার লেনদেন। দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রধানকে পর্যন্ত যেখানে টাকার জোরে বশ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, সেখানে সাধারণ মানুষ তার কাছে কতটা অসহায়, তা সহজেই অনুমেয়!

এবার জানা যাক ভুক্তভোগী সেই নারীর পরিচয়। ইসরাত জাহান, যিনি বিনোদন অঙ্গনে স্নিগ্ধা চৌধুরী নামেই পরিচিত। একজন উঠতি মডেল ও অভিনেত্রী। বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র ও নাটকে অভিনয় করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন এই তরুণী। কিন্তু কে জানত, ক্যারিয়ারের একটি বড় সুযোগই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে?

ঘটনাটি গত ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখের। খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে ১৬ লাখ টাকার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তির লোভ দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয় স্নিগ্ধা চৌধুরীকে। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। স্নিগ্ধার দাবি, নজরুল ইসলাম তাকে অন্য এক নারী (জেবা তাকিয়া) ভেবে ভুল করেন। আর সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় স্নিগ্ধাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, খোদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে স্নিগ্ধার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। এখানেই শেষ নয়, তলোয়ার দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়! ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে এই নারকীয় তাণ্ডব।

শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি নজরুল। তার মুখে গরম কফি ঢেলে দিয়েছে।  বাধ্য করেছে মদ খেতে। এক পর্যায়ে একতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

এই ঘটনার পর গত ২৬ জুলাই রবিবার দিবাগত রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন স্নিগ্ধা। কিন্তু ক্ষমতার জোর কাকে বলে! মামলার পরদিনই, অর্থাৎ ২৭শে জুলাই আদালতে আত্মসমর্পণ করেই মাত্র ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেয়ে যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। মেডিকেল রিপোর্ট আসার আগেই এই জামিনে হতবাক সাধারণ মানুষ।  ২৮শে জুলাই বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্নিগ্ধা চৌধুরী।

এখানেই থেমে থাকেনি অভিযুক্ত আশিয়ান গ্রুপের নজরুল ইসলাম। তিনি পরবর্তীতে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে টেলিফোনে হুমকিও দেন।

এই অবস্থায় এখন নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মডেল অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। যদিও আশিয়ান গ্রুপ সব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। আশিয়ান গ্রুপের দাবি ’বিজ্ঞাপনের চুক্তির বাহানা  ধরে অফিসে প্রবেশ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্ল্যাক মেইলিং ফাদঁ পেতেছিল একটি চক্র।  তবে শিল্পপতি নজরুল ইসলাম তাদের অসৎ প্রলোভনের হুমকিতে নতি স্বীকার না করায়, এখন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী মিডিয়া ব্রিফিং ও মিডিয়া ট্রলের মিথ্যা ও অলৌকিক নির্যাতনের গল্প  ছড়াচ্ছে’।

  • Advertisement

মাছ বিক্রেতা থেকে ভূমিদস্যু, প্রধান বিচারপতিকে ঘুষের মামলা থেকে মডেলের ওপর নির্যাতনসহ  নজরুল ইসলামের অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ। প্রশ্ন একটাই, আইনের হাত কি তবে এই প্রভাবশালী কোটিপতির কাছে সবসময়ই ছোট থাকবে?