ঢাকায় যুবদল কর্মী হত্যা চার খুনি সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ, দেখা গেছে বিএনপির মিছিলেও

SHARE

প্রথম ছবিতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে হাসান আলী। দ্বিতীয় ছবিতে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে যুবদলের মিছিলে মাসুম বিল্লাহ।

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.রাজনীতি প্রতিনিধি,  বুধবার,২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩১৪ সফর ১৪৪৮ :

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের চার যুবকের নাম চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে জেলায় আলোচনা হচ্ছে। অভিযুক্ত চারজনের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

  • Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

অভিযুক্তরা কালীগঞ্জ উপজেলার রাড়ীপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী মোল্লার ছেলে জিহাদ মোল্লা ও দামোদারপুর গ্রামের বাক্কার আলীর ছেলে হাসান আলী।

অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আর অন্যতম আসামি মাসুম বিল্লাহকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে।

 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন, নাহিদ হাসান (২১), শাফিন আহমেদ (২২), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), আলী হোসেন (৪৫), জিহাদ মোল্লা (৩০), মাসুম বিল্লাহ (২৮), আবির হাওলাদার (২৫) এবং চঞ্চল মোল্লা। আসামি হাসান আলী পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার নিহত হওয়ার পরে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন রাজনীতিতে নামলে তার সঙ্গে হাসান আলী (নীল শার্ট পরিহিত)।

 

রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমানকে খুনি ভাড়া করতে সহযোগিতা করেন কালীগঞ্জের হাসান আলী। কালীগঞ্জের দামোদারপুর এলাকার হাসান আলী তার পরিচিত তিন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে ঢাকায় পাঠান। হাসান আলী কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হাসান আলী ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সমর্থক ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম আনার কলকাতায় গিয়ে নিহত হওয়ার পরে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন হাসান আলী। চলতি বছরের ২২ মে এমপি আনারের বাসভবনের নিচে ডরিনের সঙ্গে হাসান আলীসহ কয়েকজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছেন। সেই ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, রাজধানীতে যুবদল কর্মী হত্যার ঘটনায় আটক কালীগঞ্জের আরেক যুবক মাসুম বিল্লাহ শ্যূটার হিসেবে কাজ করতেন। আগে তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মাসুম বিল্লাহও এমপি আনারের কর্মী ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাসুম বিল্লাহকে দেখা গেছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মাসুম বিল্লাহর একাধিক ছবি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলামের সঙ্গে মাসুম বিল্লাহ (হলুদ গেঞ্জি পরিহিত)।

এমনই একটি ছবিতে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন একটি বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। ওই সময় মাহাবুবুর রহমান মিলনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মাসুম বিল্লাহ।

 

এছাড়াও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলামের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে মাসুম বিল্লাহর হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও নেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে যুবদল কর্মী হত্যায় জড়িত জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লা এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা এলাকায় চুরি-ডাকাতিতেও জড়িত ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লা কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম আনারের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

এসব বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘মাসুম বিল্লাহ নামের ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারছি না। ভোটের প্রচারণার সময়ে কে কখন, কোন জায়গা থেকে এসে মিলিয়েছে, তা মনে রাখা যায় না। মাসুম বিল্লাহ বা অভিযুক্ত অন্যরা বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কমিটির পদপদবিতেও নেই। তারা বিএনপির কেউ না।’’ 

ঢাকার কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যার তিন আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে। ছবিতে রয়েছেন হাসান আলী, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহ। মাঝখানে লাল গেঞ্জি পরিহিত জিদাহ। তার পেছনে চশমা চোখে নীল গেঞ্জি পরিহিত মাসুম বিল্লাহ ও পাশে হাসান আলী।

কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘‘মাসুম বিল্লাহকে চিনতে পারছি না। কখন যে কোনো জায়গা থেকে কে মিছিলে আসে, সেটি বলাও যায় না। আর সাংগঠনিক কোনো কমিটিও তিনি নেই।’’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল থাকে না। তাদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। ৫ আগস্টের পর এ সকল সন্ত্রাসীদের দলে জায়গা দেওয়া উচিত হয়নি।’’

  • Advertisement

  

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যার সঙ্গে জড়িত কালীগঞ্জের চার খুনীর ব্যাপারে কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। ঢাকা থেকে কোনো তথ্য তাদের কাছে চাওয়া হয়নি।

প্রথম ছবিতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে হাসান আলী। দ্বিতীয় ছবিতে ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে যুবদলের মিছিলে মাসুম বিল্লাহ।