ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.চট্টগ্রামের চন্দনাইশ প্রতিনিধি ,বুধবার,২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩১৪ সফর ১৪৪৮ :
স্ত্রী ও তিন ছেলে সবাই প্রবাসে। নিজেও দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকলেও দেড় বছর আগে দেশে ফিরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন আবদুর রহমান (৬৫)। শেষ পর্যন্ত সেই নিঃসঙ্গ জীবনই যেন করুণ পরিণতি ডেকে আনলো। মৃত্যুর তিন থেকে চার দিন পর নিজ ঘর থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
-
Advertisement
আবদুর রহমান নগরপাড়া গ্রামের প্রয়াত কালা মিয়া (মিয়া সওদাগর) সওদাগরের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ছিলেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন।
নিজের রান্নাবান্না নিজেই করতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিন ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চায়ের দোকানে সর্বশেষ আবদুর রহমানকে দেখা যায়। এরপর তাকে আর বাইরে দেখা যায়নি। দুবাই থেকে ছেলেরা কয়েকদিন ধরে ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
সোমবার বিকেলে ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরের খোঁজ নিতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে খাটের ওপর তার পচা-গলা মরদেহ দেখতে পান। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইমান ফারুকীর নেতৃত্বে সদস্যরা পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করেন।
চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মানবিক টিমের সদস্যদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আবদুর রহমান অনেকটা একাকী জীবনযাপন করতেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগও ছিল সীমিত।
চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রিটন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মরদেহে পচন ধরেছে, চোখ-মুখে পোকা লেগেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবদুর রহমানকে সর্বশেষ দেখা যায়। তিনি স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্ত্রী ও তিন ছেলে থাকেন দুবাই, ঘরে পড়ে ছিল বৃদ্ধের পচা-গলা মরদেহ




