
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,মেঘনা থেকে,মোঃ আলাউদ্দিন সাংবাদিকি এর সৌজন্যে,সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬ || শ্রাবণ ১২ ১৪৩৩ || ১২ সফর ১৪৪৮ হিজরি :
কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই টেঁটাবিদ্ধ।
এদিকে ঘটনার পর মেঘনা নদী থেকে কোহিনুর বেগম (৩৫) নামে এক নারীর টেঁটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
নিহত কোহিনুর বেগম মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলায় গেলে চর বিনোদপুর এলাকার আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
এর জের ধরে বিকেলে মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, বিশেষ করে টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। এর মধ্যে তিতাস উপজেলার ১৫ জন এবং মেঘনা উপজেলার ২৫ জন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে তিতাস উপজেলার আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মেঘনা উপজেলার আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত চর বিনোদপুর গ্রামের স্বপন মিয়া (২৭), সাগর মিয়া (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে (৩৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পর আলীপুর এলাকার মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে উদ্ধার করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা কোহিনুর বেগম।
চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর দাবি করেন, চরভাটেরা গ্রামের শাহ আলম মেম্বারের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের গ্রামে হামলা চালায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা প্রায় ১০০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, নারীদের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় এবং কয়েকটি গবাদিপশুও নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, চরভাটেরা গ্রামের শাহ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ২৫ সদস্যের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, মেঘনা নদীর দুই তীরে অবস্থিত তিতাস ও মেঘনা উপজেলার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুন একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রোববার দুপুরের এই সংঘর্ষে সেই বিরোধ আরও নতুন করে উসকে উঠেছে।



