ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি,মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ || আষাঢ় ১৬ ১৪৩৩ || ১৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করেন। সেই দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মোশারফের সঙ্গে গৃহবধূ নাজমা আলম ও তার পরিবারের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি বাসার এক সেট চাবি ও সিসি ক্যামেরার পাসওয়ার্ড দেওয়া ছিল মোশারফের কাছে।
সম্প্রতি মোশারফ ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পরে নাজমার কাছে এক লাখ টাকা হাওলাত চান মোশারফ। টাকা দিতে অস্বীকার করায় কৌশলে নাজমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে খাটের নিচ থেকে ২৯ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান তিনি।
মোশারফ নিজের স্বীকারোক্তিতে এমনই তথ্য দিয়েছেন বলে জানান টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন জানান, টাকা না দেওয়ার কারণে নাজমা আলমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গলার চেইন, হাতের বালাও নিয়ে যান মোশারফ। এছাড়াও তাদের বাসার দুইটি হাতুড়ির মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।
এদিকে নাজমা আলমকে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে থানায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছি। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, মোশারফ নাজমাকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যান। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।
-
Advertisement

উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে গৃহবধূ নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুইজন



