(ভিডিও)ইরান যুদ্ধের জের বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে একক আধিপত্য হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জায়গা নিচ্ছে চীন

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.,আন্তর্জাতিক  প্রতিনিধি ,বুধবার   ১০ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার এক জটিল সমীকরণে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ইরান ইস্যু নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫

বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফলাফল নিশ্চিত করা কঠিন। আবার সংঘাত থেকে সরে আসলেও কৌশলগত ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ধরনের ‘দ্বিমুখী সংকট’ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ফাইদা হাসিল হচ্ছে চীনের। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়াকে সরিয়ে সামনের সারিতে চলে এসেছে চীন।

কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র দোটানায় পড়েছে, চীনই বা কীভাবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে তা নিয়েই বিস্তারিত থাকছে এই প্রতিবেদনে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি: সীমিত অর্জন ও অনিশ্চিত ফলাফল
২৮ অক্টোবর থেকে ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান বা চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য ছিল মূলত তিনটি- ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস, সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, এসব লক্ষ্য পূরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সহজ হচ্ছে না।

বিশ্লেষকরাও বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চাপ থাকা সত্ত্বেও ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েনি এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্কও সক্রিয় রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্রুত সমাধান বা চূড়ান্ত বিজয়ের সম্ভাবনা কমে এসেছে।

এই অবস্থায় দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। হয় সংঘাত থেকে সরে আসা নয়তো সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করা। কিন্তু ওয়াশিংটনের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হলো, যুদ্ধ শুরু করে মাঝপথে এসে তারা এই দুটির মধ্যে যে পথই গ্রহণ করুক, কোনোটিতেই মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

পেছনে সরে গেলে কী হতে পারে
যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা সংঘাত থেকে ধীরে ধীরে সরে আসে, তাহলে কয়েকটি বিষয় ঘটতে পারে। যেমন- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আরও সুসংহত থাকার সুযোগ তৈরি হবে, যা সংঘাত শুরুর আগেও তেহরানের ছিল না; ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যাবে; সামরিক চাপ প্রয়োগে ইরানি শাসন পরিবর্তনের যে লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, সেই শাসনের শাসক পরিবর্তন হলেও শাসন বহাল রয়ে যাবে; এছাড়া ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

শুধু তাই নয়, বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করা এই আগ্রাসন থেকে নিজেরাই সরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে বিশ্ব রাজনীতির সামনে, যা আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য লজ্জার ও অপমানের। হয়তো এই ব্যর্থতা ও অপমান মেনে নেয়া বা সহ্য করার সাহস না পেয়ে যুদ্ধ থেকে সরে আসছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুদ্ধ সামনে নিয়ে এগোলে কী হবে
ট্রাম্পের হাতে আরেকটি পথ খোলা, আর সেটি হলো সংঘাতময় পরিস্থিতি বহাল রাখা, যতদিন না লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে। এমনটিই করতে পারেন তিনি। কারণ, ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ফের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে, প্রশ্ন এখানেও থেকে যায় যে, যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে গেলে আদৌও কি সফলতা পাবেন ট্রাম্প? এর উত্তর হলো- এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বেশ কিছু ঝুঁকিতে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্ব।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা: যুদ্ধ চললে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশ্ব তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ সরবরাহ হওয়া সামুদ্রিক পথ হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে সবচেয় বিপদে পড়বে এশিয়ার দেশগুলো। কারণ, এই দেশগুলোর অধিকাংশেরই তেল বাণিজ্য হয় এই রুটে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তৈরি হবে তীব্র অস্থিরতা।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা সংকট: ইরানে আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আরেক সামুদ্রিক পথ লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে। আর এর প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ইউরোপেও। এর ফলে বেড়ে যাবে জ্বালানির দাম, ঊর্ধ্বমুখী হবে মুদ্রাস্ফীতি।

যুদ্ধ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা: দেড় মাসের যুদ্ধে তেমনভাবে কোণঠাসা হয়নি তেহরান। তাই যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনকেই সমাধানের পথ হিসেবে বেছে নিলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে ইরানি মিলিশিয়ারা। এসব মিলিশিয়াদের সশস্ত্র উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিতে পারে গৃহযুদ্ধের দিকে। অন্যদিকে তেল ও পর্যটন বাণিজ্য নির্ভর উপসাগরীয় দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, ইরান উপকূল থেকে খুব কাছেই সংযুক্ত আরব আমিরাত আর তেহরান দেশটিকে অন্যতম শত্রু হিসেবে মনে করে। ফলে, যে কোনো সময় আরব আমিরাতে স্থল হামলার ঝুঁকি রয়েছে। যদি এমনটি ঘটে তবে, বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে এই যুদ্ধ।

ইরান যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণে চীনের প্রভাব ও ভূমিকা
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান যুদ্ধে সমাধানের পথ না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে কেন? এর উত্তর হলো- ইরান সংকটের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর একটি হলো চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। ইরানের জ্বালানি রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনে যায়। যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে, তবে চীন–ইরান অর্থনৈতিক সম্পর্ক যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

বরং বলা যায়, জ্বালানি কেনার মধ্য দিয়ে ইরানের তেল বাণিজ্য টিকিয়ে রেখেছে বেইজিং, যা ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অর্থাৎ বৃহৎ অর্থে ইরানের অর্থনীতি টিকে আছে চীনের কারণেই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পথ দিয়ে তাদের মোট তেল আমদানির ৪০ শতাংশই সরবরাহ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক: বৃহত্তর প্রতিযোগিতার ছায়া
ইরানের অর্থনীতি ও হরমুজ ছাড়াও ইরানের সামরিক বাহিনীকে বরাবরই অস্ত্র, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করে থাকে বেইজিং- এমনটিও মনে করা হয়। আঞ্চলিক বিভিন্ন ইরানি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং চীনের এমন নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখছে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে হলেও চীনের দারস্ত হচ্ছেন ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঝটিকা সফরে বেইজিং সফর করেছেন।

তবে, ওয়াশিংটন জানে যে কোনো ধরনের লাভ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লক্ষ্য পূরণে বেইজিং এগিয়ে আসবে না। আর তাই তাইওয়ান ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাইওয়ানকে চীন থেকে আলাদাভাবে দেখতে চাইছে না তারা। এজন্য নতুন করে তাইওয়ানকে বিপুল বাজেটের অস্ত্র হস্তান্তরের চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে এসেছেন।

এর আগে কোল্ড ওয়ারের সময় রাশিয়াকে পরাস্ত করতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখনও সামনে আনা হয়েছিল তাইওয়ান ইস্যুকে। সে সময় চীনকে পাশে পেতে তাইওয়ানকে তারা আলাদা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া থেকে সরে আসে।

তবে কখনই চীনকে পাশে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। আর এই চিরন্তন সত্যকে যখন অনুভব করে ওয়াশিংটন তখন তারা চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করে। তবে সেখানেও ব্যর্থ দেশটি। গত এক দশকে বেইজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে।

প্রথমবার ক্ষমতায় আশার পর ট্রাম্প চেষ্টা করেছিলেন প্রযুক্তি শিল্পে অবরোধের মাধ্যমে চীনকে অর্থনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। চীন প্রযুক্তিশিল্পে নিজস্ব কার্যকর প্রডাক্ট তৈরি করে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই পদক্ষেপ খুব একটা কাজে আসেনি। এমনকি এআইয়ের বিকল্পও তারা বানিয়ে ফেলেছে, যেটিও ব্যাপক কার্যকর। অন্যদিকে বিভিন্ন মার্কিন টেক জায়ান্ট চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় পড়ে শত কোটির বেশি মানুষের দেশটির মার্কেট হারিয়েছে, যা বৃহত্তর অর্থে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বড় ক্ষতি। এজন্য মার্কিন বড় টেক জায়ান্টগুলো যে কোনো মূল্যে চীনের বাজার ধরতে মরিয়া।

আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স ও সামরিক শিল্পে বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খনিজগুলোর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি বড় অংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প অনেকাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশের জন্য তৈরি করছে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

ইরানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু এবং প্রযুক্তি বাণিজ্যের জেরে অর্থনৈতিক ইস্যু সমাধানে তাই চীনের দিকে তাকিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর এ কারণেই চলতি মাসে বেইজিং সফর করেন তিনি। তবে, সেখানে গিয়ে খুব একটা লাভ হয়নি ট্রাম্পের। তাকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানো হলেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। বরং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে উদ্দেশ্য করে তাইওয়ান প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন। বেইজিং মনে করে, তাইওয়ান প্রশ্নই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এর অর্থ দাঁড়ায়, চীনের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তাইওয়ানকে শুধু ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, তাইওয়ানের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্নের কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট যে বিশ্বের যে কোনো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্তই এখন আর একমাত্র গ্রহণীয় নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও তা মনে করছে না। অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের আধিপত্য বাড়ছে আর তাই ওয়াশিংটনকে ইরান যুদ্ধ সমাধানে ঝুঁকতে হয়েছে বেইজিংয়ের দিকে।

Advertisement

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক বিশ্লেষক এমনও মনে করছেন, বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে একক আধিপত্যের (ইউনিপোলার) যুগ থেকে বহুমেরু (মাল্টিপোলার) ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ কোনো রাষ্ট্র আর পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।