(ভিডিও)ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা: অর্থমন্ত্রী

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.,জাতীয় সংসদ প্রতিনিধি ,বুধবার   ১০ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি :

ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পেছনে কোনো একটি রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুচ্ছেদে ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫

ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা টাকা উত্তোলন করে চলে গেছে, তারা সম্ভবত ব্যাংকটিকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে। এর পেছনে কোনো কোনো শক্তির হাত আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তারা আসলে চায় ইসলামী ব্যাংক ফেল করুক, যাতে রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এটার সঙ্গে কিছু ব্যাপার আছে। ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে যে উগ্র মিছিল এবং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, উচ্ছৃঙ্খল-উগ্রতার সঙ্গে যে ধরনের প্রতিবাদ করা হয়েছে এবং এটা এখনো অব্যাহত আছে। এটার সঙ্গে বিরোধী দলের আশঙ্কা প্রকাশের যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছি। কারণ, যারা উইথড্র করে (টাকা) চলে গেল, এরা কারা? নিশ্চয় চেয়ারম্যানের কারণে উইথড্র করে নাই।’

ইসলামী ব্যাংক থেকে বের হওয়া টাকার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত নয়, বিরোধীদলীয় নেতার এমন দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘উনি চ্যালেঞ্জ করেছেন, গোল্ড মেডেলও দিতে বলেছেন। এই দাবিটা কিন্তু সালমান রহমানও করতে পারে, এই দাবিটা এস আলমও করতে পারে। কারণ, তারা তো নিজের নামে কেউ টাকা নেয় না।’

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চেয়ারম্যানের চরিত্র সম্পর্কে উনাদের মন্তব্য…কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলেছে, তাঁদের (চেয়ারম্যান) কিছুই পাওয়া যায়নি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনো ব্যাংকের গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়, এটার কোনো নজির দুনিয়ায় নাই। কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে গ্রাহক ধার ধারে না। গ্রাহক ধার ধারে তার ইন্টারেস্ট রেট ঠিকমতো পাচ্ছে কি না, টাকাটা ফেরত পাবে কি না এবং আস্থা আছে কি না, সেগুলোর।’

এই প্রশ্নগুলো বিগত নির্বাচনে ‘টাকার ছড়াছড়ির’ কারণে সামনে এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আমরা বিপুল অঙ্কের টাকার সম্মুখীন হয়েছি। এমন এমন ক্যান্ডিডেট যাঁদের কোনো ব্যবসা নেই, বাণিজ্য নেই…নির্বাচনে আইন ভায়োলেট করেও ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে নিজের পয়সা খরচ করতেছেন। এমন এমন ক্যান্ডিডেট ছিলেন, যাঁদের তেমন কোনো আয়ের উৎস সম্বন্ধে জানা নেই। তাঁরা ৫০ কোটি, ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই প্রশ্নগুলো আসছে কিন্তু ওই জায়গা থেকে এবং এটাই কিন্তু পাবলিক নলেজ। সবার কাছে এত টাকা কীভাবে খরচ করতে পারে?’

এ ধরনের অর্থ ব্যয় নির্বাচনি ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং এই টাকা রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Advertisement

বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সময় আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বিএনপি সেই জায়গা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আরও ভালোর দিকে যাচ্ছি। আর্থিক শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ অনুধাবন করে না।’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ছবি:ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম