(ভিডিও)লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সস্তা ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরায়েলি সেনারা

SHARE

https://youtu.be/EmQKS0nMOZc?si=JxcI86pdm09feinG

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,শনিবার   ১৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪৩৩ || ২৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

ইরানের নেতৃত্বে ফাটল ধরানো থেকে শুরু করে হিজবুল্লাহর কমান্ড কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া; মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বারবার প্রমাণ করেছে ইসরায়েল। কিন্তু এত প্রযুক্তির ভিড়েও যুদ্ধক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর একটি ‘সস্তা’ অস্ত্রের কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেটি হলো বিস্ফোরকবাহী ছোট ড্রোন। মাত্র ৩০০ ডলারে অনলাইনে কিনতে পাওয়া এই ড্রোনের কাছে বর্তমানে কার্যত কোনও কার্যকর প্রতিরক্ষা নেই ইসরায়েলের। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ‘এই ড্রোনগুলো থেকে পালানোর কোনও উপায় নেই। আমাদের কাছে বর্তমানে এর কোনও অপারেশনাল জবাব নেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন দেখামাত্র ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ বিশেষ হান্টিং রাইফেল অর্ডার করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের ১৪০ বিলিয়ন শেকেল (৪৭ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেটও ৩০০ ডলারের এই ড্রোনের কাছে হার মানছে। গত এক মাসে যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও এই ড্রোনের আঘাতে দক্ষিণ লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিজবুল্লাহর এই ড্রোনগুলো রেডিও তরঙ্গের পরিবর্তে ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবহার করে এগুলোকে অকেজো করতে পারছে না। ড্রোনগুলো খুব নিচু দিয়ে উড়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা রাডারে ধরা পড়াও প্রায় অসম্ভব।

উত্তর ইসরায়েলের জনবসতিকে হিজবুল্লাহর করনেট মিসাইল থেকে রক্ষা করতে দক্ষিণ লেবাননের ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। কিন্তু হিজবুল্লাহ এখন সরাসরি সংঘাতের বদলে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বেছে নিয়েছে। ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘গেরিলারা অনেক সময় প্রথাগত সেনাবাহিনীর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির এখন লেবাননের এই চোরাবালিতে আটকা পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ড্রোন বা রকেট হামলার ঝুঁকি থাকলে ঘরে ফিরতে নারাজ। এই সংকট নিরসনে সেনাপ্রধান জামির জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।

ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আসবে না।

Advertisement

অন্যদিকে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী। সিরিয়া দীর্ঘকাল ধরে হিজবুল্লাহর কাছে ইরানি অস্ত্র পৌঁছানোর প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।