ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ || জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
চুয়াডাঙ্গায় নাচ-গান ও টিকটক করার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর লাশ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঝিনাইদহ থেকে লাশ চুয়াডাঙ্গা শহরতলির দৌলাতদিয়াড় গ্রামে পৌঁছার পর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, তার চলাফেরা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিতর্ক ছিল। মূলত এসব কারণ দেখিয়েই জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফনে আপত্তি তোলা হয়। এলাকার কতিপয় লোকজনের আপত্তির মুখে একপর্যায়ে দাফনকাজ বন্ধ হয়ে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে রাত ১০টায় ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
বুধবার রাতে ঝিনাইদহে একটি ভাড়াবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। তিনি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার দৌলাতদিয়াড় গ্রামের ওহিদ মোল্লার মেয়ে। স্বামী পাভেলের সঙ্গে ঝিনাইদহে থাকতেন তিনি।
সুবর্ণা আক্তারের (২৯) পরিবার দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ায় বসবাস করে আসছেন। সুবর্ণা ছিলেন ছিলেন ওহিদ মোল্লা ও পারভীন বেগমের মেয়ে এবং ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ভাটই বাজার এলাকার মো. পাভেল হোসেনের স্ত্রী।
সুবর্ণা আক্তার পেশায় নৃত্যশিল্পী ছিলেন। তিনি ঝিনাইদহের আরাপপুর এলাকার কোর্টপাড়ায় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করতেন। তার বেশ কয়েকটি গানের ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, তার নাচের অঙ্গভঙ্গি ছিল অশ্লীল এবং চলাফেরা ছিল বেপরোয়া। এ কারণেই মূলত চুয়াডাঙ্গার শহরতলি দৌলাতদিয়াড় গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দাদের একটি অংশ তার দাফনে বাধা দেয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় রাতে দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ বেলা সাড়ে ৫টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে ঝিনাইদহে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা। পরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, আগে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা এলাকায় সুবর্ণার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসন্তান রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি প্রথম স্বামী ও সন্তানদের রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার ওই ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে ঝিনাইদহে ময়নাতদন্ত শেষে সুবর্ণার লাশ চুয়াডাঙ্গার দৌলাতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার নিজ বাড়িতে আনা হলে তার দাফনকাজে বাধা দেয় এলাকার একটি অংশ। তার দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফনের অনুমতি চাইলে গোরস্তান কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃতের পরিবার কমিটির সদস্য নয়। সদস্যপদ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত কয়েক ধাপে মোট ২২ হাজার টাকা পরিশোধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের একটি অংশ আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণার চলাফেরা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল। কেউ কেউ পরিবারের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলেন।
এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফন দিতে প্রথম দিকে রাজি হয়নি।
আরেক বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তিনি বা তার পরিবার এখানকার সদস্য নয়। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।
অন্যদিকে, মৃতের পরিবারের সদস্যরা এসব আপত্তির প্রতিবাদ জানান। সুবর্ণার সৎবাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যকে এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুঁড়তেও দেওয়া হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও দাফনের কথা ভাবছিলাম। পরে গোরস্তান কমিটি ও মৃতের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। একপর্যায়ে পরিবারটি কবরস্থান কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গ্রামের দক্ষিণপাড়া জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সুবর্ণা আক্তারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
Advertisement

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নৃত্যশিল্পী হওয়ায় সুবর্ণার লাশ দাফনে আপত্তি


