ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সবার দেশ পত্রিকার সৌজন্যে ,শনিবার ০২ মে ২০২৬ || বৈশাখ ১৯ ১৪৩৩ || ১৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১৭ বছর ধরে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। আর সে কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল বা গোয়ালঘর সদৃশ টিনের ঘরে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে।
জরাজীর্ণ ভবন, আলো-বাতাসের সংকট, শৌচাগারের অভাব ও ভয়ভীতির পরিবেশে চরম দুর্ভোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শিশুরা।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
সরেজমিনে লক্ষ্মীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে তিনটি কক্ষ তৈরি করে পাঠদান চলছে। এসব কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নেই। নেই বৈদ্যুতিক ফ্যান কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগার ও ওয়াশরুমও।
বিদ্যালয়টির মূল ভবন ২০০৮ সালে নির্মিত হলেও বর্তমানে দেয়াল ও সিঁড়িতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু অস্থায়ী উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া সে কার্যক্রম ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সরানো হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই ভবনে পাঠদান, সালিশ কার্যক্রম এবং পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া চলায় পুরো স্কুলজুড়ে এক ধরনের পুলিশি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটি শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য মোটেও উপযোগী নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বাংলাদেশ পুলিশ–এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও সমাধান হয়নি।
অভিভাবক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, আমাদের বাচ্চারা গরু রাখার জায়গার মতো পরিবেশে বসে পড়াশোনা করছে। সেখানে না আছে আলো, না আছে শৌচাগার। এভাবে শিশুরা কীভাবে ভালো শিক্ষা পাবে?
আরেক অভিভাবক কল্পনা রানী বিশ্বাস বলেন, স্কুলে সবসময় পুলিশের আনাগোনা থাকে। এতে ছোট ছোট বাচ্চারা ভয় পায়। আমরা চাই দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে শিশুদের জন্য স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে গোলাম মো. বাতেন বলেন, একই ভবনে শিশুদের পাঠদান ও পুলিশি কার্যক্রম একসঙ্গে চলা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান জানান, লক্ষ্মীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে ফাঁড়িটির জন্য ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
Advertisement

তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ ও স্থানান্তর একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। তাই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত ফাঁড়িটি সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

ছবি: সংগৃহীত


