(ভিডিও)তনু হত্যা মামলার আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় তোলা হলো আদালতে

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,কুমিল্লা প্রতিনিধি,সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৪ ১৪৩৩ || ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

তিন দিনের রিমান্ড শেষে সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমানের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

এর আগে বুধবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে পিবিআইয়ের কল্যাণপুরের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি অবসর নেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে পিবিআই সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে বুধবার সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

সরেজমিনে কুমিল্লা আদালতে দেখা যায়, শনিবার বেলা একটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে আদালতে আনা হয়। বেলা দুইটার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেলা ২টা ২০ মিনিটে পিবিআই সদস্যরা তাঁকে কারাগারে নিয়ে যান। পুরো সময়জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ছিল। কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে, এ জন্য হাফিজুর রহমান মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ ছাড়া ছবি তোলার চেষ্টা করা হলেও তিনি গাড়ির ভেতরে নিচু হয়ে নিজেকে আড়াল করেছেন।

হাফিজুর রহমান
হাফিজুর রহমানছবি: সংগৃহীত

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আবারও আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

৬ এপ্রিল একই আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালত তাতে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হাফিজুর রহমান। অন্য দুজন হলেন—ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তাঁরা বর্তমানে অবসরে আছেন বলে জানা গেছে।

তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ। শুরু থেকেই তাঁরা এই নামগুলো বলে আসছেন। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তাঁরা জানতেন না; সৈনিক জাহিদের নামই বারবার আলোচনায় এসেছে।

Advertisement

সৈনিকের নাম জাহিদ না শাহীন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তদন্ত ও পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্তে ওই সৈনিকের নাম শাহীন উঠে এসেছে। শাহীন আর সৈনিক জাহিদ দুজন আলাদা ব্যক্তি। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।’ হাফিজুরের ডিএনএ পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে নেওয়ার পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছি। এই পরীক্ষা সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগে। প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।’

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

তনু আসামি হাফিজুর রহমান