ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিনোদন প্রতিনিধি,বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ || বৈশাখ ১০ ১৪৩৩ || ৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
প্রত্যেক অভিনেতা তার চরিত্রটি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে চান, যেন সবাই তা দেখে হাততালি দেয়। আজ এমন একজন অভিনেতার কথা জানবেন, যিনি মৃত্যুর অভিনয় করতে করতে সত্যি সত্যিই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু উপস্থিত সবাই না বুঝেই হাততালি দিচ্ছিলেন।
এই অভিনেতার নাম গোপ। রম্য চরিত্রে অভিনয়ে পারদর্শী এই অভিনেতা পর্দায় এলেই আসতেই সবার মুখে হাসি ফুটে উঠত। কে ছিলেন গোপ? ‘মেরে পিয়া গায়ে রঙ্গুন, ওঁহা সে কিয়া হ্যায় টেলিফোন’, এই বিখ্যাত গানে গোপের সাথে ছিলেন নিগার সুলতানা। গানটি আজও খুব জনপ্রিয়।
গোপ তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ১৯৩৩ সালে ‘ইনসান ইয়া শয়তান’ সিনেমা দিয়ে। প্রথম সিনেমায় ব্যাপক সাফল্যের পর একটানা সিনেমা করতে থাকেন তিনি।
১৯৫৭ সালের ১৯ মার্চ কুন্দন কুমারের ‘তিসরি গালি’ সিনেমার শুটিং চলছিল। ছবির একটি দৃশ্যে গোপের চরিত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কথা ছিল। ক্যামেরা চালু হল, গোপ হার্ট অ্যাটাকের অভিনয় করলেন এবং তিনি নিচে পড়ে গেলেন। দৃশ্যটি এত চমৎকার এবং বাস্তবসম্মত ছিল যে সবাই হাততালি দিতে লাগল। এবার পরিচালক ‘কাট’ বললেন, কিন্তু গোপ উঠলেন না।
একটা সময় সবাই চিন্তায় পড়ে যান এইভেবে যে গোপ কেন উঠছেন না। এরপর তাকে তোলার জন্য লোকজন গেল, তখন তিনি উঠলেনই না এবং সবাই বুঝতে পারল যে তার মৃত্যু হয়েছে। গোপের মৃত্যুর খবরে সবাই খুব ধাক্কা খেয়েছিল এবং অবাক হয়ে গিয়েছিল যে এমনও মৃত্যু হতে পারে যে মৃত্যুর অভিনয় করতে করতে সত্যিই অভিনেতা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তার ভক্তরা, যারা সবসময় তাকে দেখে খুশি হতেন, তারা তার বিদায়ে খুব কেঁদেছিল।
Advertisement

গোপের ব্যক্তিত্ব এবং শুধু তার চরিত্রগুলোই সবার মুখে হাসি আনত না, বরং তার চরিত্রগুলোর নামও বেশ আলাদা হত। যেমন ‘মাখখি চুস’ সিনেমায় তার নাম ছিল মানিক লাল মাখখি চুস, ‘শারদা’ সিনেমায় হুকুম দাস, ‘পকেট মার’ সিনেমায় উধার চাঁদ ডাব্বু, ‘বারাদ্রি’ সিনেমায় লট্টু সিং, ‘তারানা’ সিনেমায় তোতে রাম তোতে, ‘সাজা’ সিনেমায় শেঠ মতুলাল – এমন সব মজার নাম।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


