(ভিডিও)হরমুজে তিন কার্গো জাহাজে গুলি, দুটি জব্দ

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :

অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করায় গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি কার্গো জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ ইরানি গণমাধ্যমগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনোন্ডাস নামের দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম জাহাজটি ইসরাইলি সরকারের মালিকানাধীন।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাহাজ দুটি অনুমোদন ছাড়াই চলাচল করছিল, বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করছিল, নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছিল এবং গোপনে প্রণালীটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপন্ন করছিল।’
 
বিবৃতি অনুযায়ী, ‘এ কারণে ‘বাহিনীর গোয়েন্দা দক্ষতা বলে হরমুজ প্রণালীতে মহান ইরানি জাতির অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জাহাজগুলোকে শনাক্ত করে থামানো হয়েছে এবং ‘তাদের কার্গো, নথি এবং রেকর্ড পরিদর্শনের জন্য’ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
 
আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরান কর্তৃক ঘোষিত আইন বাস্তবায়নে বাধা দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অথবা এই কৌশলগত জলপথে নিরাপদ চলাচলের পরিপন্থি যেকোনো কার্যকলাপের ওপর ক্রমাগত নজর রাখা হবে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
 
এর আগে ইউফোরিয়া নামে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে আইআরজিসির বিবৃতিতে ওই জাহাজটির কথা উল্লেখ করা হয়নি। 
 
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হবে। তার আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ইরান ‍ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করে।
 
তবে ইরান কোনো প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাবেন না।
 
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান। ওয়াশিংটনের আশা, শান্তি আলোচনার জন্য ইরান যাতে আরও সময় পায় এজন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে।
 
ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ইরানের ‘ভেতরে বিভক্ত’ নেতৃত্বকে একটি একক অবস্থান নেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
 

Advertisement

 
তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এর কোনো মূল্য নেই এবং ‘যে পক্ষ হেরে গেছে, তারা কোনো শর্ত দিতে পারে না।’
 
মোহাম্মাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, সেটি আসলে বোমা হামলার মতোই। তার ভাষায়, ‘ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো কোনো অর্থ বহন করে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া মানে বোমা হামলার মতোই, এর জবাব সামরিকভাবেই দেয়া হবে।’
 
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানো আসলে সময় নেয়ার কৌশল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ কোনো হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। তার মতে, এখন ইরানের পাল্টা উদ্যোগ নেয়ার সময়।’
অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করায় গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি কার্গো জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে।