
ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,রাজধানীর পল্লবী প্রতিনিধি,বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ || বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে রাজধানীর পল্লবীর গৃহশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনাকে (৬৮)। খুনিরা এতটাই নৃশংস ছিল যে, হাতুড়ির আঘাতে তার দাঁতও ভেঙে পড়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে নিহত জোসনার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে একটি লম্বা কালো চুল পাওয়া গেছে। এই চুলের সূত্র ধরেই হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। চুরি-ডাকাতির কোনো আলামত না পাওয়ায় সাবলেটসহ ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাই এখন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের চুলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
রাজধানীর পল্লবী ১২ নম্বর এলাকার ৮ নম্বর রোডের গাজী মঞ্জিলে ভাড়া থাকতেন গৃহশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে একাই সেখানে বসবাস করতেন। তিন রুমের ফ্ল্যাটের মধ্যে দুই রুম সাবলেটে দিয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বাসায় প্রবেশ করেন জোসনা। পরদিন সকাল ১০টার দিকে দারোয়ান দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা হতবাক হয়ে যান।
পরে নিহতের ভাই থানায় মামলা করেন। তিনি জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে জোসনা টিউশনি করিয়ে জীবন চালাতেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগও ছিল সীমিত।
নিহতের ভাই নাজমুল আলম নাজু বলেন, আমাদের যাতায়াত কম ছিল, তবে জোসনা মাঝে মাঝে বাবার বাড়ি বা ভাইদের বাসায় আসতেন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়ারা জানান, জোসনা নিজের নাম সালমা বলে পরিচয় দিতেন এবং তার স্বামী ও সন্তান রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে তাদের কেউ কখনো আসতে দেখা যায়নি। এক ভাড়াটিয়া বলেন, তিনি বলেছিলেন তার স্বামী কর্নেল তাহের। ছেলে-মেয়ে বুয়েটে পড়ে। কিন্তু তাদের কাউকে কখনো দেখিনি।
স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তারা কল্পনাও করতে পারেননি। নিহতের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না এবং কোনো লেনদেনের বিষয়ও জানা যায়নি।
এদিকে, নিহতের মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে পাওয়া চুলটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করছে। সন্দেহভাজনদের তালিকায় সাবলেট ভাড়াটিয়াদের রাখা হয়েছে এবং তাদের চুলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এক সাবলেট ভাড়াটিয়া বলেন, ‘নিহতের হাতে চুল ছিল। লম্বা চুল, মনে হচ্ছিল কোনো নারীর চুল। আমার মেয়ের চুলের সঙ্গে মিল আছে বলে পুলিশ নমুনা নিয়েছে।’
ডিএমপির পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও আমরা তদন্ত করছি। তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো, তবে তিনি স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকতেন।
Advertisement

তিনি আরও বলেন, এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা তিন-চারটি অ্যাঙ্গেলে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে চুরি বা ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সাবলেট ভাড়াটিয়া ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মোবাইলসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভবনে সিসিটিভি না থাকায় আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে।



