ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া প্রতিনিধি ,বুধবার ০৮ এপ্রিল ২০২৬ || চৈত্র ২৫ ১৪৩২ || ১৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১২টি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে মহাসড়কের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে থাকা পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে এসব ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাংস ব্যবসায়ীদের একটি চক্র স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে এমন নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, চক্রটি বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ঘোড়া কম দামে কিনে এনে জবাই করে সেগুলোর মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। বিষয়টি নিয়ে বুধবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস প্যাকেট জাত করার দৃশ্য দেখতে পান। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে খবর দিলে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২টি জবাইকৃত ঘোড়া ও একটি অসুস্থ জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চক্রটির ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন। ভোরে তারা ঘটনাস্থলে যায় চোর চক্র টের পেয়ে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীররাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে অজ্ঞাত গাড়ি আসতে দেখা যেত। পরে সকালে সেখানে রক্ত ও পশুর হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। পরে চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে পুঁতে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করত তারা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা রিগ্যান মোল্লা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২টি ঘোড়া জবাই ও একটি অসুস্থ ঘোড়া উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আইন অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। তবে চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবৈধভাবে অসুস্থ ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুন্সিগঞ্জে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১২টি জবাইকৃত ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার। ছবি:ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম


