ঢাকার যেখানে ৫০ টাকায় নদীতে রাত্রিবাস করা যায়

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ  ২৪.ম,ঢাকা প্রতিনিধি, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি :

বর্তমান বিশ্বে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার মতো মেগা সিটিতে এ সমস্যা আরও প্রকট। এ ক্ষেত্রে ভাসমান হোটেল বা বোর্ডিং একটি অস্থায়ী সমাধান হতে পারে। বুড়িগঙ্গা নদীতে এ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে চালুও রয়েছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন স্থাপত্য ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি ড. সাজিদ বিন দোজা

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য আছে এই ভাসমান হোটেল
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য আছে এই ভাসমান হোটেলছবি: কবির হোসেন

গুগলে সার্চ করে পৃথিবীর আর কোথাও ভাসমান নৌকার ওপর এমন সস্তা বোর্ডিং হোটেল আছে কি না, বোঝার চেষ্টা করলাম। পেলাম না। বদলে বিলাসবহুল সব ভাসমান রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের তথ্য আসা শুরু করল। গুগল পাতার এককোণে দেখতে পেলাম বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ ফিড ও ফিচারে বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে ভাসমান হোটেলের তথ্য। অনেক ইউটিউবারও কভার করেছেন বিভিন্ন সময়—সস্তায় বোর্ডিং, রাত কাটানোর আশ্রয় ও নিম্ন অ্যায়ের মানুষের বিশ্রামের ঠিকানা হিসেবে।

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য সদা নিবেদিত এই আশ্রয়ণ কারবার। দিনমজুর, হকার, পান-সিগারেট বিক্রেতা, ফল ব্যবসায়ী ও অন্য শহর থেকে আসা ঠিকানাহীনদের অস্থায়ী আবাস এই ভাসমান বোর্ডিং। ঢাকা শহরের আবাসনসংকটে কি কোনো ভূমিকা রাখছে ভাসমান হোটেল? তৃণমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য কতখানি সংবেদনশীল, কারিগরি দিক থেকেই–বা কতখানি টেকসই? এসব প্রশ্ন মাথায় রেখেই বিষয়টি নিয়ে একটা গবেষণা দাঁড় করাই। আর এ কাজে অনেকবার সরেজমিনে সেসব জায়গা পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত বুঝতে চেষ্টা করেছি।

১৯৬০-৭০–এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই হোটেলগুলো নদীর পাড়ে স্থায়ীভাবে ভাসমান অবস্থায় আছে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে। বুড়িগঙ্গার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একসময় ১০-১১টি বোট ছিল, মুক্তিযুদ্ধের পর সংখ্যা কমতে থাকে, বর্তমানে মাত্র ৫টি বোট আছে—‘বুড়িগঙ্গা’, ‘উমা-উজালা’, ‘ফরিদপুর মুসলিম হোটেল বোর্ডিং’, ‘শরীয়তপুর’। বেশির ভাগই অত্যন্ত পুরোনো। ব্যবহারের উপযোগী রাখতে নিয়মিত মেরামতের কাজ চলতে থাকে।

 লঞ্চ থেকে বোর্ডিং

লঞ্চের ভেতরে এভাবে সংস্কার করে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে
লঞ্চের ভেতরে এভাবে সংস্কার করে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছেছবি: কবির হোসেন

বুড়িগঙ্গার তীরে বাঁধা ভাসমান হোটেলগুলো মূলত পুরোনো লঞ্চ। একসময় এগুলো বিভিন্ন নৌরুটে চলাচল করত। যাত্রীর চাপ আর কর্মীদের হাঁকডাকে মুখর থাকত সারা দিন। বছরের পর বছর ধরে চলতে চলতে একসময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যাত্রী বহনে আনফিট হওয়ার পরই লঞ্চগুলোর নতুন পরিচয় হয় ‘অস্থায়ী আবাসিক হোটেল’।

হোটেলগুলোর অবস্থানও বেশ সুবিধাজনক। শ্রমজীবী বা নিম্ন আয়ের মানুষদের কাজের জায়গার কাছাকাছি। পাড় থেকে ওঠার জন্য সাধারণত কাঠের সিঁড়ি। বসবাসের জন্য মোটামুটি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

শীতের সময় লেপ, কম্বল, তোশক, বালিশ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালের বিপরীতে এমনই একটি ভাসমান হোটেলের একজন ম্যানেজার জানান, সিঙ্গেল সিটের ভাড়া ৫০ টাকা এবং কেবিনের ভাড়া ১৫০ টাকা। দেশের অন্যান্য আবাসিক হোটেলের তুলনায় যা অত্যন্ত সস্তা।

ভাসমান হোটেলের রাতে থাকা এক রিকশাচালক বলেন, ‘বাসাবাড়ি বা হোটেলে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই, আগে রিকশার সিটে রাত কাটাতাম, কিন্তু ভাসমান হোটেলটির সন্ধান পাওয়ার পর থেকে এখানে থাকি।’