ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬ || চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি :
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এ দাবি করেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সোমবার রাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
কয়েক দশক ধরে আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর শান্ত ও বাস্তববাদী মুখ। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের ওপর বই লিখেছেন এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার পর লারিজানি নতুন করে আলোচনায় আসেন। চলমান যুদ্ধে ইরানের কৌশল নির্ধারণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
১৯৫৮ সালের ৩ জুন ইরাকের নাজাফের একটি ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম নেন লারিজানি। তিনি এমন এক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য যে ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাদের ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করে। লারিজানির বাবা মির্জা হাসেম আমোলি একজন বিখ্যাত ধর্মীয় পণ্ডিত ছিলেন।
লারিজানির ভাইয়েরাও ইরানের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিচার বিভাগ ও সর্বোচ্চ নেতা বাছাই ও তদারকির ক্ষমতা থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’–এর সদস্যও।
ইরানের ১৯৭৯–এর বিপ্লব–পরবর্তী অভিজাত ব্যক্তিদের সঙ্গেও লারিজানির ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ২০ বছরে বয়সে তিনি ফারিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন। ফারিদেহ ছিলেন মোরতেজা মোতাহারির মেয়ে। মোরতেজা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি আইআরজিসি-তে যোগ দেন এবং পরে সরকারে যোগ দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-র প্রধান হন।
২০০৫ সালে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হন এবং ২০০৭ সালে পদত্যাগ করেন।
২০০৮ সালে লারিজানি ইরানের পার্লামেন্টে (মজলিস) আসেন। তিনি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পান। ফলে তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। তিনি পারমাণবিক বিষয়েও সম্পৃক্ততা বজায় রেখে ২০১৫ সালের ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যকার পারমাণবিক চুক্তি ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’‑পার্লামেন্টে অনুমোদন নিশ্চিত করেন।
Advertisement
প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

২০২৫ সালের আগস্টে লারিজানি ফের ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব পদে ফিরে আসেন এবং ইরানের নেতৃত্বে একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা



