(ভিডিও)গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীসহ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান কারাগারে

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.ম,বিশেষ  প্রতিনিধি, মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২০ ১৪৩২ :

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আজ সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Advertisement

অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————

কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। আসামি রুপালী খাতুনের ২ বছর ও ছয় মাসের দুটি শিশুসন্তান আছে। তাদের অভিভাবক না থাকায় সন্তান দুটিকে আসামির সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার প্রথম আলোকে জানান, আজ আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। আসামিদের পক্ষের আইনজীবী তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে শুনানি শেষে সাফিকুর রহমানকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে  ছবিটি তোলা। ২ ফেব্রুয়ারি
আদালতে শুনানি শেষে সাফিকুর রহমানকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে ছবিটি তোলা। ২ ফেব্রুয়ারিছবি: সংগৃহীত

আবেদনে বলা হয়, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি রোডের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ।

শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন
শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখমের চিহ্নছবি: পুলিশের সৌজন্যে

মামলার বাদী ওই গৃহকর্মীর বাবা। তিনি একজন হোটেল কর্মচারী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামি শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের সাথে তাঁর (বাদী) পরিচয় হয়। সেই সূত্রে গার্ড জাহাঙ্গীর জানতে পারেন তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তখন জাহাঙ্গীর তাঁকে জানায়, এই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ে বাচ্চা খোঁজা হচ্ছে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে শফিকুর ও বিথীর সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানান, যাকে রাখবে তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবে। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুন মাসে তিনি তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে এই বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় তিনি সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। তবে এরপর তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিবারটি নানা অজুহাতে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বিথী তাঁকে ফোন করে জানান, তার মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। তিনি ২টার দিকে মেয়েকে আনতে যান। তখন বিথীকে ফোন করলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বিথী সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির বাইরে তাঁর কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।

আদালতে তোলার সময় বিথীর ছবিটি তোলা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি
আদালতে তোলার সময় বিথীর ছবিটি তোলা হয়। ২ ফেব্রুয়ারিছবি: সংগৃহীত

বাদী তখন দেখেন তাঁর মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। কীভাবে এমন হলো জানতে চাইলে বিথী সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়ে তাঁকে জানায়, গত ২ নভেম্বর তিনি দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর, খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।

Advertisement

প্রতিটি উপজেলায় সংবাদদাতা আবশ্যক। যোগাযোগ ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫

পরে বাদী এসব নিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন।