(ভিডিও)কারখানার শ্রমিক থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারী ‘ঝৌ ছুনফেই’

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি,শনিবার,৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৪ কার্তিক ১৪৩৩১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮:

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার আগেই ঝরে পড়েছিলেন। জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন কারখানায়। দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই কারখানার শ্রমিকই আজ চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। তিনি ঝৌ ছুনফেই। চীনের কাচ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা এই নারীর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সমান। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

  • Advertisement

    • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্ডিপেনডেন্ট-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬ তালিকায় শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী ঝৌ। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তালিকায় তাঁর ঠিক পরেই রয়েছেন হ্যানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ১৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন পাউন্ড।

 

এর আগে, ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারীর খেতাব পেয়েছিলেন ঝৌ।

 

১৯৯৯ সাল থেকে চীনের শীর্ষ ধনী নারীদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে বৈশ্বিক গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা হুরুন। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, চীনের সামগ্রিক ধনীদের তালিকার সঙ্গে এই তালিকার পার্থক্য রয়েছে। মূল তালিকায় পরিবারের সদস্য ও দম্পতিদের সম্মিলিত সম্পদ বিবেচনায় নেওয়া হলেও নারীদের তালিকায় প্রত্যেক নারীর ব্যক্তিগত সম্পদ আলাদাভাবে হিসাব করা হয়।

 

১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশে জন্ম ঝৌ ছুনফেইয়ের। কিশোর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে শেনজেনে চলে যান তিনি। সেখানে একটি ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট।

 

মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন ঝৌ। সেখানে নিজ উদ্যোগে উন্নত স্ক্রিন প্রিন্টিং ও বাঁকানো কাচ তৈরির প্রযুক্তি শেখেন। পরবর্তী সময়ে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গড়ে তোলেন লেন্স টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত স্মার্টফোনের পর্দার কাচ সরবরাহকারী অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

 

২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের কভার সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটে। কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার প্রায় অর্ধেক রাজস্ব এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে।

 

২০১৫ সালের মার্চে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় লেন্স টেকনোলজি। এর ফলে ঝৌয়ের সম্পদ দ্রুত বাড়ে এবং ওই বছরই চীনের শীর্ষ ধনী নারীর তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি।

 

তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। এতে ঝৌয়ের সম্পদেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

 

পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে লেন্স টেকনোলজি। বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ ও রোবোটিকস খাতে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রসারণের জন্য অর্থ সংগ্রহে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও দ্বিতীয়বারের মতো তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। তবে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা ও মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় এখনো ঝুঁকি রয়েছে।

 

চীনের উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস খাতে নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে লেন্স টেকনোলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

 

প্রযুক্তি খাতে ঝৌয়ের প্রভাব ও অবস্থান আরও স্পষ্ট হয় গত ১৪ মে বেইজিংয়ে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ঝৌয়ের আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে।

 

২০২৬ সালের পুজিয়াং ইনোভেশন ফোরামে ঝৌ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কম্পিউটিং সক্ষমতা ও অ্যালগরিদমের ওপর গুরুত্ব দিলেই চলবে না; বরং পুরো প্রযুক্তিব্যবস্থাজুড়ে ধারাবাহিক উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে হবে।

 

হুরুনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর মধ্যে ৬৫ শতাংশই নিজেদের উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২১৬ দশমিক ২৯ বিলিয়ন পাউন্ড।

  • Advertisement

অন্যদিকে, স্বামীসহ ঝৌ ছুনফেইয়ের সম্মিলিত সম্পদ চীনের সামগ্রিক হুরুন ধনীদের তালিকায় তাঁদের ৩৩তম অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ওই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৬৭০ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

ঝৌ ছুনফেই। ছবি: সংগৃহীত