(ভিডিও)চার বছরেও অজানা শিশু শাম্মি হত্যার কারণ

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/18sVDCymWV/

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,সিলেটের জকিগঞ্জ প্রতিনিধি , শুক্রবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১০ আশ্বিন ১৪৩৩১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

সিলেটের জকিগঞ্জের দক্ষিণ পীরেরচক এলাকার ভাড়া বাসায় চার বছর আগেও ছিল সাত বছরের শিশু শাম্মি আক্তারের কোলাহল। প্রথম শ্রেণিতে পড়া মেয়েটি কখনো মায়ের কাছে, কখনো বড় দুই বোনের সঙ্গে সময় কাটাত। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে।

 

এ ঘটনার পাঁচদিন পর কেছরী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে শাম্মির বস্তাবন্দী  মরদেহ উদ্ধার হয়। সেই থেকে মেয়েকে হারানোর শোকের সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন তার বাবা-মা; কে হত্যা করল তাদের মেয়েকে, আর কেনই। যার কোনো উত্তর আজ পর্যন্ত পাননি তারা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ঘটনার কোনো সুরাহা করতে পারেনি।

 

শাম্মি হত্যার চার বছর ২০ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। মামলার তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারেরও খবর নেই। দীর্ঘ সময়েও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ শাম্মির পরিবার। তাদের অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার বদলে পরিবারের একজন স্বজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।

শাম্মির বাবা মো. আজমল হোসেন জকিগঞ্জ থানায় প্রায় দুই যুগ ধরে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও নিজের মেয়ের হত্যার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিনি হতাশ।

 

স্বজনরা জানান, ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জকিগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ পীরেরচক এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হয় শাম্মি। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও না পেয়ে পরদিন জকিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। পাঁচদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পৌর এলাকার কেছরী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শাম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

রুশনা বেগম বলেন, “আমার মেয়েটা কারো সঙ্গে ঝগড়া করত না, আর ঝগড়ার কি বুঝত সে। কারো ক্ষতিও করেনি। তাকে বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলো। এত বছর হয়ে গেল, কিন্তু কে তাকে মেরেছে, কেন মেরেছে আমরা কিছুই জানতে পারলাম না।”

সাত বছরের একটি শিশুর মরদেহ এভাবে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়। শাম্মি কীভাবে বাসা থেকে বের হলো, কারা তাকে নিয়ে গেল, কোথায় হত্যা করা হলো এবং কেনই বা তার মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হলো এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি পরিবারের কাছে।

শাম্মির বাবা আজমল হোসেন বলেন, “মেয়েকে হারানোর পর প্রথম দিকে ভেবেছিলেন দ্রুতই হত্যার রহস্য বের হবে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা কমেছে। ”

 

তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে থানায় কাজ করছি। পুলিশের কার্যক্রমও কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু নিজের মেয়ের হত্যার ঘটনায় এত বছর পরও কোনো সুরাহা না হওয়াটা আমার কাছে খুব কষ্টের। জিডি করেছি, মামলা করেছি, তদন্ত সংস্থার কাছে বারবার বিষয়টি জানিয়েছি। তারপরও জানতে পারছি না, আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে।”

 

তার অভিযোগ, তদন্তের একপর্যায়ে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার বদলে তার ছোট বোনের জামাইকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছিল।

আজমল হোসেন বলেন, “আমার মেয়েকে হারানোর কষ্ট তো আছেই; এর মধ্যে আমার বোনের স্বামীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করার ঘটনাও আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তিনি এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ ও পঙ্গুত্বের জীবন কাটাচ্ছেন। অথচ আমার মেয়ের প্রকৃত হত্যাকারীরা এখনো বাইরে।”

জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঘটনাটি অনেক পুরোনো। আমার মনে হয়, এতোদিনে চার্জশীট দায়ের হয়ে যাওয়ার কথা। তবে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

শাম্মির মা রুশনা বেগম এখনো মেয়ের মৃত্যুর কারণ জানেন না। চার বছর ধরে একই প্রশ্ন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে একটি ছোট শিশুকে কেন হত্যা করা হলো?

 

রুশনা বেগম বলেন, “আমার মেয়েটা কারো সঙ্গে ঝগড়া করত না, আর ঝগড়ার কি বুঝত সে। কারো ক্ষতিও করেনি। তাকে বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলো। এত বছর হয়ে গেল, কিন্তু কে তাকে মেরেছে, কেন মেরেছে আমরা কিছুই জানতে পারলাম না।”

তিনি বলেন, “একজন মা হিসেবে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, মেয়ের লাশ পেয়েছি, কিন্তু মেয়ের হত্যার কারণ জানতে পারিনি। আমরা শুধু চাই, যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে তাদের খুঁজে বের করা হোক এবং তাদের হোক।”

শাম্মির বড় বোন সামিয়া আক্তার বলেন, “চার বছর ধরে আমরা একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। তদন্তে যদি সত্যিই কাজ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিনেও হত্যাকারীদের শনাক্ত করা গেল না কেন? আমার বোনের হত্যার বিচার পাওয়ার অধিকার আমাদের আছে।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই, তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হোক। তা না হলে সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। প্রয়োজনে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিও দেওয়া হবে।”

  • Advertisement

জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঘটনাটি অনেক পুরোনো। আমার মনে হয়, এতোদিনে চার্জশীট দায়ের হয়ে যাওয়ার কথা। তবে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। যেহেতু, বলছেন কাউকে আটকই করা হয়নি বা রহস্যই উদঘাটন হয়নি তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যাবে।”

২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিলেটের জকিগঞ্জের দক্ষিণ পীরেরচক এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হয় শাম্মি আক্তার