(ভিডিও)অল্প দামের ভয়ংকর গতির অস্ত্র, ইরানের যে উদ্ভাবনে ঘুম হারাম প্রতিপক্ষের

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ,বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||  আশ্বিন ৯ ১৪৩৩ || ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি :

একসময় ধীরগতির ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে ইরানের শাহেদ সিরিজের ড্রোনের নতুন সংস্করণ। পুরোনো শাহেদ-১৩৬ এর নতুন ভার্সন শাহেদ-২৩৮ গতি বাড়িয়ে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে শনাক্ত করা থেকে শুরু করে ধ্বংস করা পর্যন্ত কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিপক্ষকে।

  • Advertisement

  • আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ প্রথমবার উন্মোচন করে শাহেদ-২৩৮। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এটি সীমিত পরিসরে উৎপাদনে যায়। এরপর ওই বছর ১২ দিনের যুদ্ধে প্রথমবার ব্যবহারের পর চলতি বছরের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় এটি।

শাহেদ-২৩৮-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এর ইঞ্জিনে। শাহেদ-১৩৬ যেখানে ইরানে তৈরি এমডি-৫৫০ পিস্টন ইঞ্জিন ও প্রপেলার ব্যবহার করে, সেখানে শাহেদ-২৩৮-এ বসানো হয়েছে কমপ্যাক্ট টার্বোজেট ইঞ্জিন। ইরানের তলু-১০ সিরিজের ইঞ্জিন এবং কিছু ক্ষেত্রে চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি পিবিএস টিজে-১৫০ টার্বোজেট ব্যবহার করা হয়েছে এতে।

আর এই ইঞ্জিনই বদলে দিয়েছে ড্রোনটির গতি। শাহেদ-১৩৬ ঘণ্টায় মাত্র ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উড়লেও শাহেদ-২৩৮-এর গতি প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় এর গতি ৭০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যায়।

প্রায় সাড়ে তিন মিটার লম্বা এয়ারফ্রেম ও তিন মিটার ডানার সংমিশ্রনের এই ড্রোন প্রায় ৯ হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এবং বহন করতে পারে ৫০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড। তবে গতি বাড়ানোর জন্য কিছুটা মূল্যও দিতে হয়েছে। টার্বোজেট ইঞ্জিন বসাতে এয়ারফ্রেমে আনতে হয়েছে পরিবর্তন, বেড়েছে ওজনও। এরফলে কমেছে জ্বালানি বহনের সক্ষমতা ও উড্ডয়নকাল।

তবে এমন কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শাহেদ-২৩৮-এর আসল গুরুত্ব এর ক্ষীপ্রতায়। ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসা একটি লক্ষ্য শনাক্ত, শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে আগের তুলনায় অনেক কম সময় থাকে।

আরও বড় বিষয় হলো, ধীরগতির শাহেদ-১৩৬ ও শাহেদ-১৩১-এর সঙ্গে দ্রুতগতির শাহেদ-২৩৮ একসঙ্গে ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ। বিপুল সংখ্যক ধীর ড্রোন সামলানোর পাশাপাশি দ্রুতগতির লক্ষ্য মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়। শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দমনের জন্য ইমেজিং-ইনফ্রারেড সিকার ও রাডার-হোমিং প্রযুক্তিও রয়েছে নতুন এই সংস্করণে।

ইরানের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে শাহেদ-১৩৬ ও শাহেদ-২৩৮ মিলিয়ে মাসে ২০০টির বেশি ড্রোন তৈরি হয়। অন্য উৎপাদন কেন্দ্র যুক্ত হলে মাসিক উৎপাদন ৪০০ থেকে ৫০০ এয়ারফ্রেম পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতাও রয়েছে তেহরানের। পরবর্তী সংস্করণে আরও বড় আকারের ওয়ারহেড ও জ্যামিং-প্রতিরোধী উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ চলছে।

  • Advertisement

বিশ্লেষকরা বলছে, শাহেদ-২৩৮ হয়তো একাই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফল বদলে দেয়ার অস্ত্র নয়। কিন্তু কম খরচের ড্রোন মানেই ধীরগতির ও কম ক্ষতির- সেই ধারণাকে বদলে দিয়ে শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে ভয়ংকর এক রূপে আবির্ভূত হয়েছে ইরানের দ্রুতগতির মনুষ্যবিহীন এই আকাশযান।

শাহেদ-২৩৮ ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত