(ভিডিও)রাতে রান্না করে খাওয়ানোর পর ৩ সন্তানকে হত্যা করেন বাবা

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম ,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,শনিবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৪ আশ্বিন ১৪৩৩০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ :

সুনামগঞ্জে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে গিয়েছিল তিন শিশু। বাজারে গিয়ে মিষ্টি খেয়েছে তারা। বাবার কাছ থেকে পেয়েছে নতুন জামাকাপড়। ফেরার পথে বাবা কিনে এনেছেন একটি মোরগ। রাতে সেই বাবা নিজের হাতে রান্না করে তিন সন্তানকে ভাত খাইয়েছেন। এরপরই বদলে যায় সবকিছু।

 

অভিযোগ, পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তিন সন্তানকে তা পান করান শরাফত আলী। পরে নিজেও বিষপান করেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

মারা যাওয়া তিন শিশু হলো, মাওয়া আক্তার (৮), তামিম আহমদ (৫) ও শামিম আহমদ (২)। তারা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামের শরাফত আলীর সন্তান।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বামীকে না জানিয়ে সৌদি আরবে চলে যান শরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম। এর আগে স্ত্রীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন শরাফত। তবে বিদেশ যাওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে না যাওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। সেই অনুরোধ না মেনে স্ত্রী বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

 

শরাফত আলীর বড় ভাই মারফত আলী বলেন, ‘‘শুক্রবার দুপুরে শরাফত তিন সন্তানকে নিয়ে বাজারে যান। সেখানে তাদের মিষ্টি খাওয়ান, নতুন জামাকাপড় কিনে দেন। ফেরার সময় একটি মোরগও কিনে আনেন। রাতে নিজের হাতে রান্না করেন এবং সন্তানদের খাওয়ান।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘এরপর পানি জাতীয় একটি জিনিসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সন্তানদের পান করানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে শরাফত নিজেও বিষপান করেন।’’

মারফত আলী জানান, রাত দুইটার দিকে ঘরের ভেতর থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে শিশুদের দাদি ও চাচারা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢোকেন। তখন চারজনকেই ছটফট করতে দেখা যায়।

 

‘‘বড় ভাতিজি মাওয়াকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, সবাইকে জোর করে শরবত খাওয়ানোর পর থেকেই তাদের শরীর ব্যথা করছিল,’’ বলেন মারফত আলী।

 

পরে চারজনকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাতের অন্ধকারে মাহারাম নদী পার হওয়ার জন্য নৌকা পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা তাদের নিয়ে বাদাঘাট এলাকায় এক চিকিৎসকের বাড়িতে যান। চিকিৎসক দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তারা আবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

ভোরে মোটরসাইকেলে করে একজন নৌকার মাঝিকে নিয়ে আসা হয়। এরপর নদী পার হয়ে তিন শিশু ও তাদের বাবা শরাফত আলীকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফৌজিয়া বলেন, সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন শিশু ও তাদের বাবাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শরাফত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

শরাফত আলীর ভাই মারফত আলী বলেন, ‘‘একসঙ্গে বড় হতে থাকা তিন ভাতিজা-ভাতিজিকে এভাবে হারানোর কষ্ট মেনে নিতে পারছি না।’’

পরিবারের সদস্যরা জানান, শরাফত আলীরা সাত ভাই ও পাঁচ বোন। স্ত্রী বিদেশে যাওয়ার পর পারিবারিক বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তারা দাবি করছেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

  • Advertisement

ওসি বলেন, তিন শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তাদের বিষপান করানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় বাবার সম্পৃক্ততা ছিল কি না তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরাফত আলী