ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,কৃষি প্রতিনিধি, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩ আশ্বিন ১৪৩৩০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ :
-
Advertisement

-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের খোর্শেদ আলম পেশায় পরিবেশ ও সংবাদকর্মী।
খোর্শেদ আলম বলেন, ‘ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ দেখে শখ জাগে। ভাবলাম, একবার পরীক্ষা করে দেখি। ৬ শতাংশ জমিতে বীজ বপন করলাম। ফলন ভালো হওয়ার পর দেখলাম এর চাহিদাও বেশ। তখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করি।
পতিত জমিতে হলুদের সমারোহ
সেই ছোট্ট পরীক্ষাই এখন রূপ নিয়েছে বড় উদ্যোগে। নিজের প্রায় ৩ বিঘা পতিত জমিতে ল্যানফে, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জুড়ীর সহযোগিতায় ডোমাবাড়ি কচুরগুল ব্লকের ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ শুরু করেন তিনি।
সরেজমিনে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ডোমাবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যে জমি একসময় ধান কাটার পর বছরের বেশির ভাগ সময় পতিত পড়ে থাকত, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা লতাগুল্মের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের বাহারি তরমুজ। বাগানের চারপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
কেউ আসছেন শুধু বাগান দেখতে, কেউ তুলছেন ছবি। আবার কেউ পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ১০-১৫টি করে। অনেকের কাছেই হলুদ তরমুজ দেখা কিংবা খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম।
কমলগঞ্জ থেকে বাগান দেখতে আসা এম এ ওয়াহিদ রুলু বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। এত দূর থেকে এসেছি খোর্শেদ ভাইকে উৎসাহ দিতে। তরুণ বয়সে এমন উদ্যোগ সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।’
তিন মাসের ফসলে লাখ টাকার আশা
খোর্শেদ আলম জানান, হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তাঁর প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় এবার ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
গত মৌসুমের অভিজ্ঞতাও তাঁকে আরো উৎসাহিত করেছে। প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ তিন মাসের একটি ফসল থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হয়।
খোর্শেদ বলেন, ‘জুড়ীর আবহাওয়া হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাত্র তিন মাসে ফলন পাওয়া যায়। আমি মনে করি, এই এলাকায় আরো বড় পরিসরে চাষের সুযোগ রয়েছে।’
বেকার তরুণদের জন্য বার্তা
নিজের লাভের হিসাবের পাশাপাশি পতিত জমিকে কৃষির আওতায় আনার কথাও ভাবছেন খোর্শেদ। তাঁর মতে, জুড়ী উপজেলায় এখনো হাজার হাজার বিঘা জমি বিভিন্ন কারণে পতিত পড়ে আছে। এসব জমি কাজে লাগানো গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘জুড়ীতে অনেক জমি পতিত পড়ে আছে। শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। একটু সাহস করে শুরু করলে কৃষি থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ীতে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাত। উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী।’
কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণরা আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
খোর্শেদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে স্থানীয় কৃষিপ্রেমীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর সাফল্য দেখে অনেকেই হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।
তবে এখানেই থামতে চান না খোর্শেদ। আগামী বছর আরো বড় পরিসরে হলুদ তরমুজ চাষের পাশাপাশি নতুন নতুন ফসল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
-
Advertisement

খোর্শেদ আলম বলেন, ‘আগামী বছর আরো জমিতে চাষ বাড়াব। পাশাপাশি অন্য নতুন ফসলও যুক্ত করতে চাই। আমার লক্ষ্য জুড়ীকে কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।’



