ববিতা যে কারণে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিনোদন প্রতিনিধি, রোববার,০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২২ ভাদ্র ১৪৩৩২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮:

ইফতেখার আলমকে বিয়ের পর ববিতার সামনে আলমের কিছু ডার্ক সাইড উন্মোচন হয়ে গেলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনের আয়ূ ছিল সাত বছর। ববিতার সামনে কঠিন এক রূঢ় বাস্তব এসে দাঁড়ালো। বিয়ের আগে আলম নিজেকে ববিতার কাছে কোটিপতি হিসেবে জাহির করেন। সিনেমা থেকে ববিতা অঢেল টাকা পয়সা উপার্জন করেছেন। তাঁর নিজের প্রোডাকশন হাউজ “ববিতা মুভিজ” প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবে তিনি ধনবান পছন্দ করবেন। আলমকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে বাছাই করেছেন। কিন্তু কঠিন সত্যিটা হলো ইফতেখার কখনো কোটিপতি ছিলেন না। কথিত আছে তিনি বন্ধুর ব্যবসা বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। যা ববিতার কাছে তিনি নিজের ব্যবসা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। ঝগড়া মনোমালিন্য যখন তুমুল পর্যায়ে তখন ববিতার গায়ে হাত তুলতে শুরু করেন ইফতেখার। এমনকি সহনায়ক পরিচালক প্রযোজকদের সঙ্গে ববিতার অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে চরম অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলেন ইফতেখার। ববিতার গায়ে হাত তুলতে লাগলেন।
ববিতার তিনভাই- বড়ভাই শহীদুল ইসলাম পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজোভাই ইকবাল ইসলাম পেশায় বৈমানিক, এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম আমেরিকা প্রবাসী। ববিতার অভিযোগ ছিল, ইফতেখার হররোজ বিদেশি মদপান করতেন। বিয়ের আগে আলম যে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি নিজের বলে চালিয়েছিলেন আদতে সেই গাড়ির মালিক তিনি ছিলেন না। বন্ধুর মার্সিডিজ বেঞ্জকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন। আলমের ঋণের পাহাড় দেখে ববিতা প্রচন্ড হতাশ হন। ববিতাকে ইমপ্রেস করার জন্য তিনি ঋণ করে বড়লোকি দেখিয়েছেন। স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে অসম্ভব বলে ববিতা ১৯৮৭ সালের ২৪ মে তাকে প্রথম তালাক দেন।
কিন্তু তালাকের বিষয়টা আলম হজম করতে পারেননি। তিনি ববিতার কাছে মাফ চেয়ে নিজের স্বভাব চরিত্র শোধরানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ঠিক দুইদিন পর ২৬ মে ববিতা আলমকে পুনরায় বিয়ে করেন। এখানে ইসলামি রীতি অনুযায়ী হিল্লা বিয়ের সম্পন্ন করার নিয়ম। কিন্তু ববিতা এক্ষেত্রে ইসলামি রীতি অনুসরণ করেননি। তাই তার পুনরায় বিয়ের ব্যাপারটা আইনসিদ্ধ হয়নি বলে সেসময় আলোচনা সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু একমাস যেতে না যেতে আবার সংসারে অশান্তি শুরু হয়। ইফতেখার ববিতা মুভিজের অফিসে গিয়ে বসতে লাগলেন। কিন্তু ববিতা চাননি আলম তাঁর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করুন। তিনি অনেক বুঝালেন যে এতে তাঁর সম্মানহানি হয়। কিন্তু আলম নির্বিকার উত্তর দিলেন, “কেন?ওয়াহিদ সাদিক (শাবানার স্বামী) যদি এসএস প্রোডাকশনের অফিসে বসতে পারেন তিনি কেন পারবেন না”?
ববিতার বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি মামলা হয়। ইফতেখার ভুয়া লাইসেন্স বানিয়ে ববিতা মুভিজের কর্ণধার সেজে ইন্দো সুয়েজ ব্যাংকে ববিতা মুভিজের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলেন। তিনি এই একাউন্ট থেকেই ববিতা মুভিজের টাকা পয়সা লেনদেন করতেন। একদিন ৫০ হাজার টাকার চেক ডিক্লাইন্ড হয়। আর তখন ববিতার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। ববিতা মুভিজের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন ববিতা। এরমধ্যে ইফতেখার ববিতাকে না জানিয়ে তাঁর গাড়ি বিক্রি করে ফেলেন। ববিতা তখন শ্যুটিংয়ে ব্যাংকক ছিলেন। রাগে অগ্নিশর্মা হন ববিতা। গাড়িটি ছিল তাঁর শখের। এবার ববিতা আইনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যারিস্টার রাবেয়া ভুঁইয়া ববিতাকে আইনগতভাবে সহায়তা করেন। একদিন ইফতেখার ববিতার গুলশানের বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শিশু অনীককে একাই মানুষ করেন ববিতা।
তবে ডিভোর্সের পর ইফতেখার মিডিয়ার কাছে ববিতা সম্পর্কে কিছু অভিযোগ করেন। ইফতেখারের মতে, ববিতার আগে একটা বিয়ে হয়েছিল মরহুম নায়ক ফারুকের সাথে। সে খবর বড়বোন সুচন্দার কানে যাওয়া মাত্র সুচন্দা ক্ষুব্ধ হন ববিতার উপর। বড়বোনের শাসনের চোখ এড়িয়ে ববিতা গোপনে ফারুককে বিয়ে করার পর একটা সিনেমার লোকেশনে খুব সম্ভবত ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জের দিকে কোথাও ছিলেন। সুচন্দা সেখানে ছুটে যান। গিয়ে ববিতাকে চড় থাপ্পড় দিয়ে সাথে নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। তারপর ববিতার উপর জোর খাটিয়ে ফারুককে ডিভোর্স দেন। তবে জাফর ইকবালের সঙ্গেও ববিতার তুমুল প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একসময় ববিতার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মদের নেশায় ডুবে যান জাফর। স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে জাফরের ভালো সম্পর্ক ছিলনা। লিভার সিরোসিসে জাফর ইকবালের অকাল মৃত্যু হয়। শোনা যায়, ইফতেখার আলমের মৃত্যুর পর ববিতা গিয়েছিলেন প্রাক্তন স্বামীর লাশ দেখতে। সেখানে ইফতেখারের আত্মীয়রা ববিতাকে দেখেই ক্ষেপে যায়। তাঁরা ইফতেখারের মৃত্যুর জন্য ববিতাকে দায়ী করেন। ববিতার সঙ্গে তারা দুর্ব্যবহার করলে ববিতা বিমর্ষ মুখে শোকবাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।