খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ‘আলোর দিশারী’ নারী ইলেকট্রিশিয়ান নিপা(ভিডিও)

SHARE

নিপা ত্রিপুরা। ছবি:ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,শুক্রবার   ০৩ জুলাই ২০২৬ ||  আষাঢ় ১৯ ১৪৩৩ || ১৭ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :

মাথায় কোঁকড়ানো চুল আর কাঁধে ঝোলানো ভারী ব্যাগ। পাহাড়ি দুর্গম ও আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে চলছেন এক তরুণী। তার কাজ- পাহাড়ের মানুষের ঘরে সোলার প্যানেল বসানো ও বিদ্যুতিক সমাধান করা। তিনি নিপা ত্রিপুরা। খাগড়াছড়ি জেলার একমাত্র নারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সফলভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন আলো।

  • Advertisement

  • (মোঃ ইসমাইল হোসেন)
  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫,০১৮০৬৬৭৬৬৬৩

 

নিপা ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি সদরের গাছবান অমৃত পাড়ার কৃষক খুপেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ছোটবেলা থেকেই জুমচাষি বাবার সঙ্গে মাঠে কঠোর পরিশ্রম করলেও, নিপার চোখ-মুখে সবসময় জ্বলত বিদ্যুতের তার, সুইচবোর্ড আর নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতের এক অদম্য ইচ্ছা। ইলেকট্রনিক্সের কাজের প্রতি এই তীব্র ঝোঁক আজ তাকে স্বপ্নচারী থেকে বাস্তবে এক প্রত্যয়ী ‘আলোর দিশারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নিপা ত্রিপুরা জানান, খাগড়াছড়ির টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করার পর, তিনি প্রথমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ থেকে সোলার স্থাপনের ওপর ৬ মাসের একটি প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে ‘পিকেএসএফ’ থেকে ৩ মাসের ইলেকট্রনিকের কাজ শিখেন। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর তাকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ তাদের সোলার স্থাপনের জন্য সহকারী ইলেকট্রেশিয়ান হিসেবে চাকরি দেন। এখন তিনি চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে অন্য বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানের কাজ করেন।

 

 

নিপার বাবা খুপেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, “মেয়ের এই কাজে আমরা খুব খুশি। আমাদের বাড়িতেও এখন সোলার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিপা নিজেই স্থাপন করেছে। বাড়িতে বিদ্যুৎ চলে গেলে এই সোলারই আমাদের আলো দেয়।”

নিপা ত্রিপুরার প্রশিক্ষক মো. বেলাল হোসেন জানান, নিপা তাদের সংস্থা থেকে ৬ মাসের সোলার স্থাপন-মেরামত ও পিকেএসএফ থেকে ৩ মাসের বৈদ্যুতিক মেরামতের কাজের প্রশক্ষণ নেন। এই প্রশিক্ষণে তিনি একমাত্র নারী প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

 

  • Advertisement

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ এর আঞ্চলিক কর্মকর্তা শ্যামল অগাষ্টিন রোজারিও জানান, নিপা সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। তিনি বর্তমানে আমাদের সোলার ও ক্লিন প্রজেক্ট আওতায় সোলার ও ইলেকট্রনিক্স ইনস্টলেশনের কাজ করছেন। পাশাপাশি নিজ এলাকায় মানুষের বিদ্যুতিক সমস্যার সমাধান দিয়ে তিনি যেমন বাড়তি আয় করছেন, তেমনি পাহাড়ের অন্য নারীদের জন্যও এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।