(ভিডিও)ঝিনাইদহে শিশু তাবাচ্ছুম হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

SHARE

য়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ৪.,ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি,সোমবার   ২২ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩৩ || ৬ মহররম ১৪৪৮ হিজরি :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Advertisement

  • অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
    ——————————-
    আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫,
    ০১৩১৫২৫১১৪৫

 

সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।

 

নিহত তাবাচ্ছুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

 

আদালত সূত্র জানায়, বিচারক জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে লাশ গুম করার জন্য পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।

 

ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরের  ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।  তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য্য করেন আদালত।

 

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, “মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।”

Advertisement

শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।