ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম,বিশেষ প্রতিনিধি, রোববার ১৭ মে ২০২৬ || জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি :
দেশের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলের তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের একটি পাইলট উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংকট এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বহুমাত্রিক সমস্যার বাস্তবভিত্তিক সমাধান খুঁজে তা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
Advertisement
অপরাধমূলক সংবাদ পাঠান
——————————-
আপনি অপরাধমূলক সংবাদ পাঠাতে পারেন লিখা ও ভিডিও এবং চিত্রসহ প্রধান সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন দ্বায়ী থাকবেন। আপনার নাম ও ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার গোপন থাকবে। লিখুন আমার ফেইজ বুকে Md Ismail Hossain অথবা ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম।মোবাইল: ০১৭১৪৪৯৭৮৮৫
——————————————
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এই পাইলট মডেলের জন্য দেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় তিনটি গ্রামকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছে। এগুলো হলো কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সোনারপাড়া, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালী।
জিইডি জানিয়েছে, দেশে প্রায় ৯০ হাজারেরও বেশি গ্রাম থাকলেও এই তিনটি গ্রামকে বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এগুলো দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক বাস্তবতা ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে নদীভাঙন ও বন্যা, পাহাড়ি দুর্গমতা এবং উপকূলীয় লবণাক্ততা এই তিন ধরনের বড় সংকট একসঙ্গে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা
নির্বাচিত তিন গ্রামে আলাদা আলাদা উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। সোনারপাড়ায় নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে এবং মৌলিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাও উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পার্বত্য এলাকার মিতিঙ্গাছড়িতে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, শিক্ষার নিম্নহার, ভূমিধস ও অতিবৃষ্টিজনিত দুর্যোগ এবং বেকারত্বের হারকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনার তেলিখালী গ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমির অবক্ষয় গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া, নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা সেবার ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এসডিজি লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়ন
এই পাইলট উদ্যোগটি এসডিজির একাধিক লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে জিইডি। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, লিঙ্গ সমতা, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু পদক্ষেপ।
Advertisement

প্রকল্প সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই তিন গ্রামে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে একটি কার্যকর ‘এসডিজি গ্রাম মডেল’ তৈরি করা হবে, যা সফল হলে তা ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
এ বিষয়ে জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, “নির্বাচিত গ্রামগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসডিজি সূচকের সঙ্গে ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।”

এসডিজি মডেল গ্রাম বাস্তবায়নে যাচ্ছে সরকার


